“অভিষেক নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে দিদির উপর চাপ সৃষ্টি করতেন। যার কারণে, নিজের স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলো দিদি নিতে পারতেন না। “

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : ভরাডুবি হয়েছে দলের। কে নেবে পরাজয়ের দায় ? তাই কি টার্গেট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক দলের প্রবীণ নেতা মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আর কর্ণার হচ্ছেন অভিষেক। এর আগেও নবীন-প্রবীণ বিতর্কে দলের অন্দরেই কোণঠাসা হতে হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সময় তৃণমূল সুপ্রিমো সামাল দেন বিষয়টি। কিন্তু এখন তো আর সেই ক্ষমতা নেই। তাই অভিষেকের বিরুদ্ধে বেলাগাম হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূলের প্রবীণ নেতা। সেই তালিকায় প্রথমেই নাম কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর। এরপরেই মুখ খুলতে শোনা গেল রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে ।তালিকায় আর কে কে? কেনই বা অভিষেকই টার্গেট? তবে কি দলের অন্দরে অভিষেকের বাড় বাড়ন্ত না পসন্দ ছিল প্রবীণ নেতাদের?দলের ভরাডুবির পর সব নেতারাই মুষড়ে পড়েছেন। এই আবহে প্রথম বোমা ফাটালেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি নাকি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ধৃতরাষ্ট্র করে রাখা হয়েছিল। প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।
দলের আরও এক প্রবীণ নেতা রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনিও নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, রাজ্য স্তরে দলটা দুটো ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। একদিকে দিদি। আর একদিকে অভিষেক। তিনি আরও বলেন….

“অভিষেক নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে দিদির উপর চাপ সৃষ্টি করতেন। যার কারণে, নিজের স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলো দিদি নিতে পারতেন না। দিদি যদি তাঁর স্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারতেন, তাহলে দল হয়তো ক্ষমতায় থাকত। বাংলার মানুষের ভাবনা সম্পর্কে অভিষেকের এখনও এতটা অভিজ্ঞতা হয়নি। ও হয়তো বুঝেই উঠতে পারেনি। কর্পোরেট স্টাইলে করতে গিয়ে সবকিছু তছনছ করে দিল”
এই দলে নাম লিখিয়েছেন পাপিয়া ঘোষ। শিলিগুড়ির প্রাক্তন জেলা সভানেত্রী পাপিয়া ঘোষ দলের অন্দরে দাসত্ব, করার অভিজ্ঞতায় সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূলে আমরা ছিলাম স্রেফ চাকর। দল চলেছে মালিক আর চাকরের সমীকরণে। পাপিয়ার আরও দাবি, বাংলার মানুষ তৃণমূলকে নয়, বরং দলের দাম্ভিক নেতাদের অহংকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। হারের জন্য তিনি সরাসরি আইপ্যাকের দাদাগিরি কে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা থাকায় রাজ্যস্তরের নেতারা কার্যত পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়াকড়িতে আইপ্যাকের ছক আর খাটেনি বলেই উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল শিবিরের এই শোচনীয় পতন।
এবার কে? অনেকেই হয়তো হাঁসফাঁস করছেন। শুধু সুযোগের অপেক্ষা। আবার অনেকেই পিঠ বাঁচাতে তৎপর। কেউ কেউ ভয়ে মুখ লুকিয়েছেন। কেউ আবার দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। এইসবের মাছে ঘাসফুল শিবিরে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। তৃণমূল সুপ্রিমো যদিও বলছেন বাঘের বাচ্ছার মতো লড়াই দেবেন। দলকে এক ছাতার তলায় রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু বিপর্যয়ের ধাক্কা সামালানো কি মুখের কথা। কালিঘাট টু হরিশ মুখার্জী রোডেও পরিবর্তনের ধাক্কা। সরে গেছে হাই সিকিউরিটি। সেই রাস্তাতে সাধারণের যাতায়াত অবাধ। জেড প্লাস সিকিউরিটি ছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা পেতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিশ মুখার্জী রোডের ১১৮এ-এর ঠিকানায় এখন থেকে সেই নিরাপত্তারক্ষীরা থাকছেন না। শুধু তাই নয়, তাঁর কালীঘাট রোডের বাড়ির সামনে থাকা নিরাপত্তাকর্মীরা ডিউটি থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ফুটপাথের উপরে বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে পুলিশের বসার জায়গা থাকত, সেই জায়গা এখন খালি, শুনশান। কথায় আছে আজ যে রাজা কাল সে ফকির।