ভোটের মুখে অভিষেকের ভবিষ্যদ্বাণী !

প্রথম দফার ভোট আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক বার্তা উঠে এল তৃণমূলের তরফে।

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : ভোটদানের আগেই এলো রাজনৈতিক বড় ভবিষ্যতবাণী। ভোটের আগে আত্মবিশ্বাসে ভর করে জানিয়ে দেওয়া হল কত আসন ঝুলিতে আসতে চলেছে। এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলেও শুরু জোর চর্চা। শেষ মুহূর্তে এই বড় দাবি কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটারদের মনে, আর কতটা বদলে দেবে লড়াইয়ের সমীকরণ। সেদিকেই এখন নজর সবার।

সেবারে ছিল অব কি বার দুশো পার। সময়টা ছিল ২০২১-র বিধানসভা ভোট। ২৪ এর লোকসভা ভোটে টার্গেট ছিল ৪২টির মধ্যে ৩৫ জয়। তবে তার ধারেকাছেও পৌঁছতে পারেনি সেবারে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দেননি নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহরা। তবে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে এ বার বাংলায় বিজেপিই ক্ষমতায় আসবে বলে রাজ্যে এসে ঘোষণা করে গিয়েছেন শাহ। সেই লক্ষ্যে এ বার রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১০টির দিকে আলাদা করে নজর দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

অন্যদিকে জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর আশা রাখছে তাঁদের দল ১০০টি আসনে জয় ছিনিয়ে আনবে। এবং মুখ্যমন্ত্রী কিংবা উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ারও ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিজেপির অমিত শাহ বা জনতা উন্নয়ন পার্টির হুমায়ুন কবীরদের লক্ষ্যমাত্রা বেশ সাড়া ফেলেছে। বাংলা নতুন বছরে এল নয়া ভবিষৎ বাণী। একেবারে সব ছাপিয়ে ২৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হল। যেন ভোটের আগেই ফলাফল। ২৯৪-র মধ্যে কটা আসন পাচ্ছে তৃণমূল? প্রথম দফার ভোটের আগেই চলে এল ২০২৬-র ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল।

প্রথম দফার ভোটের আগে আবারও সেই ২৩০ আসন পাবে বলে হুঙ্কার শানানো হল। আর যার থেকে এই হুঙ্কার শোনা গেল, তিনি আর কেউ নন, তিনি হলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার প্রায় ৩০ হাজার প্রতিনিধির সঙ্গে এক মেগা ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা সাধারণত কর্মীদের মধ্যে বেশ ভালোই চাঙ্গা ভাব তৈরি করতে পারে। বড় টার্গেট এবং জয়ের আত্মবিশ্বাস কর্মীদের মনে উইনিং মাইন্ডসেট গড়ে তোলে। যা বুথ স্তরে কাজের গতি বাড়ায় এবং প্রচারে নতুন এনার্জি এনে দেয়। কর্মীদের মধ্যে আলাদা আত্মবিশ্বাস যোগায়। তবে এর একটি ঝুঁকিও রয়েছে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস অনেক সময় বাস্তব লড়াইকে হালকা করে দেখার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।

প্রথম দফার ভোট আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ। তার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক বার্তা উঠে এল তৃণমূলের তরফে। কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা পৌঁছল মাঠ ছেড়ো না, অর্থাৎ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বুথ ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও কম নয়। একদিকে যেমন এটা কর্মীদের মধ্যে জয়ের মনোভাবকে আরও চাঙ্গা করবে, তেমনই বিরোধীদের উদ্দেশেও এটি একপ্রকার চ্যালেঞ্জ । তবে প্রশ্ন উঠছে, এই আত্মবিশ্বাস কি বাস্তবের মাটিতে প্রতিফলিত হবে? ২৩০ আসনের লক্ষ্য যে সহজ নয়, তা রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী নির্বাচন, বিরোধীদের সম্ভাব্য ভোট ট্রান্সফার। সবকিছুই শেষ মুহূর্তে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই বোমা ফাটিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল এবার ডিফেন্সে নয়, পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মুডে। এখন দেখার, এই আত্মবিশ্বাস ভোটবাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

২৩০ আসন নিশ্চিত। এই ধরনের জোরালো দাবি স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের ওপর একটা মানসিক চাপ তৈরি করে। মূলত নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ন্যারেটিভ সেট করার চেষ্টা করতে পারে। যেখানে তৃণমূল নিজেদের এগিয়ে থাকার শক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। এতে বিজেপি, কংগ্রেস, এবং বাম সহ বাকি বিরোধী দলগুলোর ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। বিশেষ করে যেখানে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি। তবে চাপটা একমুখী একেবারেই নয়। এই ধরনের বড় দাবি অনেক সময় বিরোধীদের আরও আগ্রাসী করে তোলে। তারা এটাকে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস হিসেবে দেখিয়ে ভোটারদের কাছে পাল্টা বার্তা দিতে পারে।

ভোট ময়দানে সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের এগিয়ে রাখে। সরকার গঠন সময়ের অপেক্ষা বলে দাবি করে। জনমত তাদের পাশে বলেই সওয়াল করে। আসলে রাজনীতির দেখা এমনটাই হয়ে থাকে। প্রশ্ন হল, সবাই যদি জেতে, তাহলে হারবে কে ? না শেষ পর্যন্ত সেটা হয় না। তাই জনতা জনার্দন। জনতা যাকে যতটা দেবে। সে ততটাই পাবে। সে ২৩০ হোক বা শুধু ৩০ হোক।