পরিকল্পনা করে অধীররঞ্জন চৌধুরীর উপর আক্রমণ ? ষড়যন্ত্রের অভিযোগ জেলা কংগ্রেস নেতৃত্বের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : দীর্ঘদিন পর বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। বলা ভালো রাজ্যে কংগ্রেসের মুখই এখন তিনি। মুর্শিদাবাদে তৃণমূল স্তরে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে তিনি সক্রিয়। ভোটের প্রচারেও বেশ সাড়া ফেলেছেন। তাই কি হিট লিস্টে বহরমপুরের রবিনহুড। কখনও প্রচারে হামলা। আবার কনভয়ে লরির ধাক্কা। তবে কি পরিকল্পনা করে অধীররঞ্জন চৌধুরীর উপর আক্রমণ চলছে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি পুলিশকে প্রার্থীর প্রচার সংক্রান্ত সবতথ্য আগে থেকে দেওয়া থাকে। তাহলে কি করে এমন দুর্ঘটনা ঘটে। বরাত জোরে বেঁচেছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। কে করছে এমন ঘৃন্য চক্রান্ত।
বুধবার কান্দি থেকে নির্বাচনী প্রচার সেরে ফিরছিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। সন্ধে ঠিক ৬.৪৫। জীবন্তী এলাকায় আচমকায় পিছন থেকে একটি দ্রুত গতিতে আসা ট্রাক তাঁর কনভয়ের একটি গাড়িতে ধাক্কা মারে। অধীর চৌধুরী যে গাড়িতে ছিলেন ঠিক তাঁর আগের গাড়িতে ধাক্কা লাগে। আহত হন অধীররঞ্জন চৌধুরীর নিরাপত্তারক্ষী। অধীর চৌধুরীর গাড়িতে থাকা এক দলীয় কর্মী জানান, ট্রাকটি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এসে ধাক্কা মারে। বরাতজোরে অধীরঞ্জনের গাড়িটি বেঁচে গিয়েছে। তবে যে গাড়িতে ধাক্কা লেগেছে, সেটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং ভিতরে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা চোট পেয়েছেন। এখান পর্যন্ত দুর্ঘটনা তথ্য নিয়ে কোনও সন্দেহ জাগেনি। কিন্তু এরপরই তাঁদের সঙ্গে যা ঘটে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব। দুর্ঘটনার পরই কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় খবর দেওয়া হয়। কিন্তু দলের অভিযোগ, খবর দেওয়ার প্রায় আধ ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে পুলিশের দেখা মেলেনি। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, প্রার্থীর গতিবিধি সম্পর্কে আগে থেকেই পুলিশকে জানানো থাকে, তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনার পর এই টালবাহানা কেন? পুলিশি ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছে জেলা কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। এর পিছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র বা অধীর চৌধুরীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিধান ভবন। প্রার্থীর ওপর এই হামলার বা দুর্ঘটনার খবর পৌঁছাতেই নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। হাই-প্রোফাইল এই ঘটনাটি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।ইতিমধ্যেই ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেছে কান্দি থানার পুলিশ। এটা প্রথম ঘটনা নয়। প্রচারে বেরিয়ে বারবার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। এই তো গত শনিবার প্রার্থী অধীর চৌধুরী কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বেরিয়েছিলেন। শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকতেই তাঁকে তৃণমূলের বাধার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ। অধীরবাবুর দাবি, পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল প্রচারে বাধার সৃষ্টি করছে। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি,উনি অতীত। বাইরের লোক এনে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় মানুষ তার প্রতিবাদ করেছেন। যদিও এ নিয়ে এতটুকু পিছিয়ে যেতে নারাজ অধীর চৌধুরী।
গত শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন অধীর। তাঁকে দেখে ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূলের একদল নেতা-কর্মী। বহরমপুরের আব্দুস সামাদ রোডে ওই ঘটনা ঘটে। সেখানে একটি নার্সিংহোমে জেলা কংগ্রেসের এক নেতা অসুস্থ হয়ে ভর্তি রয়েছেন। অধীরবাবু তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার সময় তাঁকে দেখে তৃণমূলের কর্মীরা ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন বলে অভিযোগ। এখন প্রশ্ন উঠছে কেন বারবার ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে অধীররঞ্জন চৌধুরীকে। তবে কি বহরমপুর কেন্দ্রে হাওয়া বদলের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বহরমপুর কেন্দ্রে বর্তমানে বিজেপির দখলে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র ৮৯,৩৪০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তৃণমূল দলের নারু গোপাল মুখার্জি । তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ২৬,৮৫২ ভোট। ২০১৬ সালেও এই কেন্দ্র কংগ্রেসের দখলে ছিল। কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তী ১,২৭,৭৬২ ভোট পেয়ে জয়ী । দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন তৃণমূল প্রার্থী ডঃ সুজাতা ব্যানার্জী । তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৯২,২৭৩ ভোট। এবার প্রেক্ষাপট একটু আলাদা। কংগ্রেসের হয়ে ভোট ময়দানে অবতীর্ণ অধীররঞ্জন চৌধুরী। আবার তাঁকে গুরুদক্ষিণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। অতএব বহরমপুরে লড়াইটা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে অধীররঞ্জনের কারণে। সেই কারণেই কি পথে এত বাধা। কিন্তু প্রশ্ন হল অধীররঞ্জনের প্রার্থী হওয়াটা কার গলার কাঁটা বিজেপি না তৃণমূলের। নাকি অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে এর পিছনে।