ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে মানবাধিকার সংগঠন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার সরব হল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর (Association for Protection of Democratic Rights)। মঙ্গলবার সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে। দুর্ঘটনার কারণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকা—সবকিছু নিয়েই তারা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।

পরিদর্শন শেষে এপিডিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মৃত ও আহত শ্রমিকদের জন্য অবিলম্বে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করতে হবে। সংগঠনের দাবি, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি দুর্ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের গাফিলতি। যেখানে আগুন লেগেছিল, সেই এলাকায় বেআইনিভাবে জলাভূমি ভরাট করে নির্মাণকাজ চলছিল বলে অভিযোগ তোলে এপিডিআর। তাদের মতে, পরিবেশ আইন ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মানা হয়নি, আর প্রশাসনের নজরদারির অভাবেই এই বিপর্যয়ের মাত্রা বেড়েছে।
এপিডিআর প্রতিনিধিরা আরও জানান, কর্মরত শ্রমিকদের জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমন পথ কিংবা নিরাপত্তা প্রোটোকল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি ও নিয়মিত পরিদর্শনের ব্যবস্থাও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, এপিডিআর জানিয়েছে এই ঘটনায় জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করার কথা ভাবা হচ্ছে। তাদের মতে, শুধু দোষীদের শাস্তি নয়, বৃহত্তর স্বার্থে অবৈধ নির্মাণ ও জলাভূমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতি গ্রহণ করা জরুরি।
আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এখন রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে সকলেই।