২০০ বছর পর রথতলায় গড়াবে রথের চাকা!

ব্রিটিশ শাসনামলে যখন স্বদেশী আন্দোলনের হাওয়ার অন্যতম চিহ্ন বটীশ্বরের রথের চাকা।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : জায়গা জমি বেচে রথ তৈরি করতে গিয়ে সন্দেহের চোখে পড়েছিলেন ইংরেজদের। দেশে তখন স্বদেশী আন্দোলনের জোয়ার।হঠাৎ একজন গ্রামের লোক এত টাকা নিয়ে কলকাতায় কেন সেই সন্দেহে আটক করে ইংরেজ পুলিশ। তাঁর নাম সাধন বৈরাগি। কিন্তু সাধন ও নাছোড়বান্দা তিনি রথ করবেন। এরপর ইংরেজদের পুলিশ তাকে নিয়ে আসে গ্রামে। গ্রামে এসে আসল ঘটনা জেনে ছেড়ে দেয় পুলিশ। তারপর রথ তৈরি করে গ্রামে রথযাত্রা শুরু করেন‌ মথুরাপুরের বটীশ্বরে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই রথ নষ্ট হয়ে যায়। থেকে যায় সেই রথের চাকা। ক্রমে রথবিহীন রথতলার নাম থেকে যায়। প্রায় ২০০ বছর পর ফের গ্রামের মানুষজন সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন করে রথ তৈরি করছেন। গ্রামবাসীরা কাজে হাত লাগিয়েছেন। এবছর আবার শুরু হবে সেই রথ।

মথুরাপুরের বটীশ্বরের এই ঘটনাটি অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। পরাধীন ভারতের বুকে দাঁড়িয়ে একজন সাধারণ মানুষের এমন অদম্য জেদ এবং দেশপ্রেমের গল্প সত্যিই বিরল। স্থানীয় ইতিহাস বা লোকসংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের শেকড়ের পরিচয় বহন করে
​ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ব্রিটিশ শাসনামলে যখন স্বদেশী আন্দোলনের হাওয়া বইছে, তখন সাধন বৈরাগীর মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এভাবে রুখে দাঁড়ানো এবং ধর্মের আড়ালে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংহতি বজায় রাখার চেষ্টা ছিল এক নীরব প্রতিবাদের শামিল।
​শ্রদ্ধা ও উত্তরাধিকার: প্রায় ২০০ বছর পর গ্রামের মানুষের সেই পুরনো ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আজও মানুষের মনের গভীরে বেঁচে আছে।
​ঐক্যের প্রতীক: রথযাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, এটি একটি গ্রামকে একত্রিত করার অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। গ্রামবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে তারা তাদের শিকড়কে কতটা গুরুত্ব দেয়।