কুকুরের পর শিয়ালের তাণ্ডব বসিরহাটে

শিশু-মহিলা সহ জখম অন্তত ১০জন। প্রবল আতঙ্কের পর অবশেষে বন দফতরের পাতা জালে ধরা পড়ল খ্যাপা শেয়াল। স্বস্তিতে গ্রামবাসীরা

শ্যাম বিশ্বাস, নিজস্ব সংবাদদাতা :  শিয়ালের তাণ্ডবে আতঙ্কে বসিরহাটের ঘোষপাড়া। উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার নিমদাড়িয়া কোদালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাইলপুর ঘোষপাড়ার ঘটনা। এলাকায় দিনে রাতে ক্ষ্যাপা শিয়ালের তাণ্ডবে আক্রান্ত শিশু, মহিলাসহ অন্তত ১০-১২ জন। হঠাৎ এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় শিয়ালের আনাগোনা দেখা যাচ্ছিল। আচমকাই একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে এবং সামনে যাকেই পাচ্ছে তাকে কামড়ে দিচ্ছে। এতে শিশু ও মহিলাসহ একাধিক বাসিন্দা আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে ভয় পাচ্ছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে বনদফতরকে জানানো হলে তারা দ্রুত এলাকায় পৌঁছে শেয়াল ধরার উদ্যোগ নেন। বনদফতরের পক্ষ থেকে একটি খাঁচা পাতা হয় এবং শেষ পর্যন্ত ওই শিয়ালটি খাঁচায় ধরা পড়ে বলে জানা গিয়েছে।

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যেই দলবদ্ধভাবে শিয়াল গ্রামের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং গ্রামজুড়ে রাত দিন তাণ্ডব চালায়।  ফলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা দাবি জানিয়েছেন। তবে কেন শিয়ালের এত বাড়বাড়ন্ত? বিজ্ঞান মঞ্চের বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বনের পশুদের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে” তাই খাদ্য সংগ্রহ করতে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এরা। তখনই পেটের জ্বালায় মানুষের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। একটা সময় গ্রামের ঘরে ঘরে পালিত হতো মুরগি, ছাগল, হাঁস। এখন সময়ের সাথে সাথে সেসব বিলুপ্তির পথে! তাই তাদের খাদ্য যোগাড় করতে মরিয়া চেষ্টা করছে বন্যপ্রাণীরা। তবে এইসব পশু পাখিদের উপর বনদফতরের নজর দেওয়া উচিত।