ইরানের পর এবার নয়া দেশের দিকে নজর ট্রাম্পের!

নতুন দেশের পতন ঘটবে ঘোষণা ট্রাম্পের। শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা করছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের নজরে এবার কোন দেশ?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : ভেনেজুয়েলা, ইরানের পর আমেরিকার রোষানলে আরও এক দেশ! তেহরানকে দুরমুশ করার মাঝেই এবার নতুন সেই দেশের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। আসলে মুখে যুদ্ধ থামানোর কথা। এদিকে, একের পর এক দেশকে যুদ্ধ জড়িয়ে ফেলাই যেন লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তিনি জানালেন, আপাতত আমেরিকার লক্ষ্য ইরান যুদ্ধ শেষ করা। তারপর আমেরিকার নজর সেই দেশের দিকে ঘুরতে পারে বলে জানালেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এহেন বার্তার পর আরও এক যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ দেখছে কূটনৈতিক মহল। আপাতত ইরান যে আমেরিকার মূল লক্ষ্য সেটা স্পষ্ট করতে ভোলেননি ট্রাম্প। গত জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখের পর থেকে দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে আর তেল আমদানি হয়নি বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এর ফলে বিমান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে। আর এই আবহেই ট্রাম্পের এই ঘোষণায় যেন দেশটিতে বসবাসকারী মানুষের মনে ঘনিয়ে এসেছে উদবেগের মেঘ। জানেন কি কোণ দেশ নিয়ে কথা হচ্ছে? ইরানের পর এবার ট্রাম্পের নজর গিয়ে পড়েছে কিউবার ওপর, ইরানের পতন ঘটলেই ট্রাম্পের পতন কোপ গিয়ে পড়বে কিউবার ওপর। হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা প্রথমে এই যুদ্ধ শেষ করতে চাই। তারপর কিউবার বিষয়টি সামনে আসতে দেরি হবে না। অল্প সময়ের মধ্যেই আপনারা এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ কিউবায় ফিরে যেতে পারবেন। অনেক কিউবান-আমেরিকান ফের নিজেদের দ্বীপে ফিরে যাবেন বলে আশাবাদী ট্রাম্প। বলেন, “আমরা চাই আপনারা ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হারাতে চাই না।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ কিউবা আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা চাইছে।

তাঁর কথায়, “কিউবা আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আবার এই অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত নিয়ে আশাবাদী সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনী এবং ইজরায়েলি মিত্ররা দ্রুত অগ্রগতি করছে। “মার্কিন সেনাবাহিনী এবং আমাদের অসাধারণ ইজরায়েলি অংশীদাররা একসঙ্গে শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই,” বলেন ট্রাম্প। বর্তমানে কিউবা ইতিমধ্যেই আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। ওয়াশিংটনের পদক্ষেপের ফলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে কিউবার জ্বালানি মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্যেও কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত বহুবার মিলেছে। কিউবার রাজধানী হাভানায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানোই তাদের লক্ষ্য – এমন মন্তব্যও অতীতে একাধিকবার সামনে এসেছে। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিউবা নিয়ে ঠিক কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। তবু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বক্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ইরান যুদ্ধ চলাকালীনই কিউবা প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প কার্যত ভবিষ্যতের একটি সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। ট্রাম্প কিউবার প্রসঙ্গ টেনে এনে সাফ বলেন, ‘খুব শীঘ্রই কিউবার পতন ঘটবে। যদিও বিষয়টা অপ্রাসঙ্গিক, তবু বলে রাখছি যে কিউবারও পতন ঘটতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তি করার জন্য মরিয়া হয়ে আছে।’ ট্রাম্পের কথায়, ‘তারা একটি চুক্তি করতে চায়। তাই আমি মার্কো অর্থাৎ পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে সেখানকার দায়িত্ব দেব। তারপর দেখব কী হয়। তবে এই মুহূর্তে ইরানই তাঁদের অগ্রাধিকারের জায়গা বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবা আমেরিকার সঙ্গে বোঝাপড়া করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি যে সেই বোঝাপড়ায় সন্তুষ্ট নন, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ট্রাম্প।জানুয়ারি মাসে ভেনেজ়ুয়েলায় হানা দিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকায় নিয়ে গিয়েছে মার্কিন সেনা। দীর্ঘ দিন ধরেই কিউবায় তেল রফতানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছিল আমেরিকা। মাদুরোকে অপহরণ করার পর ভেনেজ়ুয়েলা থেকে কিউবায় তেল রফতানিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কিউবায় এই পরিস্থিতিতে ‘দুর্দান্ত’ বলে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেছেন কিউবার সঙ্গে যা হচ্ছে, দারুণ হচ্ছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘কিউবার সরকার আমাদের সঙ্গে কথা বলছে, এবং তারা একটি বড় সমস্যায় পড়েছে। তাদের কাছে কোনও টাকা নেই। তাদের কাছে এখন কিছুই নেই। তবে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। সম্ভবত আমরা কিউবার বন্ধুত্বপূর্ণ দখল নেব। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এ বিষয়ে হাভানা সমাজতান্ত্রিক সরকারের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন।’ এদিকে ট্রাম্পের নজর যে কিউবার ওপর আরও আগে থেকে ছিল, তা স্পষ্ট হয়েছিল ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পরই। ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে আটক করার পরে ট্রাম্প এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছিলেন, ‘কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না— শূন্য! খুব দেরি হওয়ার আগেই আমি তাই দৃঢ় ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি।’ ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতির চেষ্টা করেছিলেন। তবে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সমস্ত ক্ষেত্রে কিউবার উপর নতুন করে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকদের তালিকায় যুক্ত করা হয় কিউবাকে। অভিযোগ তোলা হয় কমিউনিস্ট ও আমেরিকা বিরোধী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে আমেরিকা। ট্রাম্পের আরও অভিযোগ, কিউবাভেনেজুয়েলা সরকারকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা দেয়। তাই ইরান ধ্বংস হলেও যে যুদ্ধের মেঘ সরে শান্তির রোদ উঠবে না তা কিন্তু ট্রাম্প আগেভাগেই স্পষ্ট করে দিলেন, ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি যে আরও উত্তাল হবে তা কিন্তু বলাই বাহুল্য।