বিদেশি সাহায্যে ‘না’ নেপালের

নেপাল ‘না’ বললেও সুড়ঙ্গ উদ্ধারে ভারত, যাচ্ছে বিশেষজ্ঞ দল, তৈরি এনডিআরএফ-ও।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। বিদেশি উদ্ধারকারী দল নেওয়ার প্রস্তাব আপাতত খারিজ করেছে কাঠমান্ডু। তবে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া প্রায় ১০০ জনকে উদ্ধারে ভারতের বিশেষজ্ঞ দলকে অনুমতি দিয়েছে নেপাল। শুক্রবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধারে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের একটি দল নেপালে পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজন হলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর দলও পাঠানো হবে।

বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত নেপালে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর কাজও চলছে। শুক্রবার ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। এখনও ৩১৫ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁদের সন্ধানে নেপাল প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে নয়াদিল্লি।

জয়শঙ্কর জানান, ইতিমধ্যেই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দু’টি বিমান নেপালে পৌঁছেছে। আরও একটি বিমান শুক্রবারই পাঠানোর কথা। দুর্গত এলাকায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে পাঠানো হচ্ছে বেইলি ব্রিজও। এই ধরনের সেতু দ্রুত জোড়া লাগিয়ে তৈরি করা যায়। সেতু বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দলও পাঠাবে ভারত। পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দল পাঠানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নেপালের অনুরোধ মেনেই সুড়ঙ্গ উদ্ধারের দল পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রথমে একটি ‘রেকি’ বা পরিদর্শক দল নেপালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে এবং কী ধরনের সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবে। তার পরেই মূল উদ্ধারকারী দল প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে কাজ শুরু করবে।

এ দিকে, বিদেশি সাহায্য নিয়ে নেপালের অবস্থান এখনও স্পষ্ট। চিন সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পর ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ—একাধিক দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও ত্রাণকাজ সামলাতে সক্ষম।

নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোকবাহাদুর ছেত্রী বলেন, বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব স্বাভাবিক হলেও এই মুহূর্তে অতিরিক্ত উদ্ধারকারী দলের প্রয়োজন নেই। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতাও সিদ্ধান্তের পিছনে কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সে বার ৩৪টি দেশ থেকে ৭৬টি আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল নেপালে পৌঁছেছিল। বিপুল সংখ্যক বিদেশি দলের উপস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সমন্বয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

তবে এ বারের বিপর্যয়ে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতের বিশেষজ্ঞ সহায়তা গ্রহণ করেছে কাঠমান্ডু। ফলে সামগ্রিক ভাবে বিদেশি সাহায্যে আপত্তি থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী ভারতের নির্দিষ্ট সহযোগিতার দরজা খোলা রাখল নেপাল।