বাংলাদেশের চাঁদপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারেক রহমানের বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা কি সুরক্ষিত নন? কেন পড়শি দেশ সম্পর্কে এই কথা বলছি-প্রথমে রংপুর তারপর যা খবর উঠে আসছে এবার চাঁদপুরের একটি হিন্দু পরিবারের সদস্যরা নাকি আচমকাই গায়েব হয়ে গিয়েছেন।
বাংলাদেশের রংপুরের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার আঘাত বাংলাদেশের আরও এক হিন্দু পরিবারের উপর। বাংলাদেশের চাঁদপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। এসকে শিল্পালয়ের মালিক পিন্টু দাস, তাঁর স্ত্রী রিমি দাস এবং দুই ছেলে নিখোঁজ বলে জানা গেছে। নিখোঁজ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়রা স্থানীয় থানায় মিসিং ডায়েরি করেছেন। পিন্টু দাসের মাসতুতো বোন ও চাঁদপুর জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক উপমা দে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ওপার বাংলায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, চাঁদপুর শহরে এসকে শিল্পালয় নামে দোকান রয়েছে পিন্টু দাসের। স্ত্রী রিমি, বড় ছেলে প্রিয়ম এবং ছোট ছেলে রূপমকে নিয়ে চাঁদপুর শহরে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। উপমা দে-র অভিযোগ সম্প্রতি পাটোয়ারী বাড়ির এক ব্যক্তি পিন্টু দাসকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন। কয়েক দিন আগে পিন্টুর স্ত্রী-ছেলেরাও বিষয়টি জানতে পারেন। তার পরেই সপরিবার আচমকা নিখোঁজ হয়ে যান পিন্টু। তিনি কোথায় পালিয়ে গিয়েছেন, না তাঁকে অপহরণ করা হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অন্য একটি সূত্রের দাবি, পিন্টুরা সম্ভবত আত্মগোপন করে আছেন। তাঁদের দাবি, পিন্টু দাস সোনার বন্ধকি কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সম্প্রতি কয়েকজনের কাছ থেকে সোনা বন্ধক রেখে টাকা দেওয়ার পর সময়মতো সেই সোনা ফেরত দিতে পারছিলেন না। সেই নিয়ে হুমকির মুখেও পড়েছিলেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন সমিতি থেকেও ব্যবসার নামে ঋণ নেওয়ায় তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয়দের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় দোকান পরিবর্তনের পর সর্বশেষ শহরের মদিনা মার্কেটে এস কে শিল্পালয় নামে একটি প্রতিষ্ঠান খোলেন পিন্টু দাস।
সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তর ভাগের জেলা রংপুরের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী ও পুত্র, কন্যাকে নিজের বাড়িতেই হত্যা করে দুষ্কৃতীরা। ওই ঘটনায় পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেফতার করে। তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় গণপতি চক্রবর্তী নামে ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শেষ করে দিয়েছ। যদিও পুলিশের ওই বয়ান নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে রংপুরে। প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতেই পুলিশ নিরীহ দুই তরুণকে ফাঁসিয়েছে বলে নানা মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে। ধৃতদের পরিবারও খুনের মত গুরুতর অপরাধে ছেলে দুটি যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে পরিবার।
রংপুরের ঘটনার পর চাঁদপুরে হিন্দু পরিবারের চারজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত চাঁদপুর বাংলাদেশে ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ওই এলাকাকে ইলিশের বাড়ি বলা হয়ে থাকে। রংপুরের মত চাঁদপুরেও বহু হিন্দু বাস করেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। কোনও কোনও মহল থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে সরাসরি সম্প্রদায়িক হিংসার পথে না হেঁটে প্রচলিত অপরাধে হিন্দুসহ সংখ্যালঘুদের বেশি করে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য তাদের ভয় দেখিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা।
রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেওয়ার পরগণপতি চক্রবর্তী হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করেছিলেন। রংপুর শহরে তাঁর চেম্বারে বেশ ভিড় হতো। তাঁর কাছে বিএনপি’র একদল তোলাবাজ দফায় দফায় টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। রংপুরবাসী অনেকেরই অভিযোগ শাসক দলের তোলাবাজদের আড়াল করতেই পুলিশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই নিরীহ হিন্দু তরুণকে খুনি সাজিয়ে আদালতে হাজির করেছে। রংপুর পুলিশ জানিয়েছে, তারা ধৃতদের নারকো টেস্ট করানো হবে।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, পিন্টু দাস ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যকে ২০ অগস্ট থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মিসিং ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত হবে। তার কাছে সোনা বন্ধক রেখে অনেকে তা ফেরত পাচ্ছেন না বলেও জানতে পেরেছি। তিনি স্বেচ্ছায় সপরিবারে আত্মগোপন করেছেন কিনা সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জোরকদমে পিন্টু দাস এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর চালানো হচ্ছে বলে খবর।
অন্যদিকে ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের ধারণা তাঁকে সপরিবারে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে। নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মূল বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায়। কুমিল্লা ও মুদাফফরগঞ্জে তাঁর আত্মীয়স্বজন রয়েছে। অপহরণ হোক বা পালিয়ে যাক পিন্টু দাস এবং তাঁর পরিবার, কেন বাংলাদেশে বারবার সংখ্যালঘু হিন্দুরাই টার্গেট হবে। এর উত্তর কি আছে তারেক সরকারের কাছে?