রাম মন্দিরের পর এবার বদ্রীনাথ! মহাধামে কেলেঙ্কারি!

বদ্রীনাথ ধামকে কলঙ্কিত করল কারা?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রণামী চুরির বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তরাখণ্ডের অন্যতম প্রধান তীর্থক্ষেত্র বদ্রীনাথ ধামেও ভক্তদের দেওয়া অনুদানের টাকা চুরির অভিযোগ উঠল। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি। পুরো ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের থেকে এই অভিযোগ সম্পর্কে ব্যাখা চাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠন অভিযোগ তোলে, অযোধ্যার রামমন্দিরের মতো বদ্রীনাথেও ভক্তদের দেওয়া প্রণামী তছরুপ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব। যদিও দ্বিবেদীর বক্তব্য, যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব নন, বিকেটিসি-তে নিযুক্ত এক সরকারি কর্মী। ওই অভিযুক্ত মন্দির কমিটির তিন প্রাক্তন চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিব হিসাবেও কাজ করেছিলেন।

বিকেটিসির সিইও সোহন সিংহ রঙ্গর জানিয়েছেন, মন্দিরচত্বরে বসানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর কথায়, এখন পর্যন্ত যে ফুটেজ মিলেছে, তা ততটা স্বচ্ছ নয়। রঙ্গদ আরও জানান, অনুসন্ধান কমিটি সব তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখবে। সব পক্ষের বক্তব্যও শোনা হবে। কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে ১৯৩৯ সালের বিকেটিসি আইন অনুসারে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে মন্দিরের এই ঘটনার সঙ্গে যেহেতু ভক্তদের বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে, তাই তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য না-ছড়ানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, বদ্রীনাথ মন্দিরে চুরির ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সারা ভারত সন্ন্যাসী সমিতির সভাপতি স্বামী গোপালাচার্য।

উল্লেখ্য, চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত কেদারনাথ ও বদ্রীনাথ মন্দির থেকে প্রণামী বাবদ প্রায় ৭০ কোটি টাকা অনুদান এসেছে। পাশাপাশি মন্দিরের গেস্ট হাউস থেকেই বিপুল টাকা আয় হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রতি বছর এখান থেকে ৫০ থেকে ৮০ কোটি টাকা আয় হয়। রাম মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসার পর এবার বদ্রীনাথেও অনুদান চুরির অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।