বাবা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন না তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির রং বদলাতে শুরু করেছে।

সূচনা পল্ল্যে, সাংবাদিক : হাজারো দুশ্চিন্তা আর টানাপোড়েন পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তি ফিরে এসেছে মন্ধানা পরিবারে। ভারতীয় ক্রিকেটের আইকনিক মুখ স্মৃতি মন্ধানার বাবা শ্রীনিবাস সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। আচমকা বাবার অসুস্থতার খবরেই শেষ মুহূর্তে জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটি স্থগিত করেন স্মৃতি। জানিয়েছিলেন, বাবা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়বেন না তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির রং বদলাতে শুরু করেছে। সামনে এসেছে এমন একাধিক ঘটনা, যা শুধু বিয়েই নয়- এই সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্মৃতির বাবার হার্টে কোনও ব্লকেজ নেই। এঞ্জিওগ্রাফির রিপোর্টে পরিষ্কার, হৃদ্রোগের আশঙ্কা আপাতত নেই। পরিবারের দুশ্চিন্তা খানিকটা কমলেও, বিয়ে নিয়ে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি তারা। কিন্তু এরই মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলেছে অন্য এক খবর—বিয়ের কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে পলাশ মুচ্ছলের কথিত ব্যক্তিগত চ্যাট ফাঁস। কারও দাবি, সম্পর্কের ভিতরে নাকি বহুদিন ধরেই অস্বস্তি তৈরি হচ্ছিল। ফলে উঠে আসছে প্রশ্ন—বাবা সুস্থ হলেও স্মৃতি কি সত্যিই ফিরতে পারবেন সেই বিয়ের প্রস্তুতিতে? নাকি সম্পর্কটাই নতুন মোড় নিচ্ছে?
এটাই প্রথম নয়। গত কয়েক দিনে একের পর এক নাটকীয় ঘটনার মোড় যেন বলিউডের চিত্রনাট্যকেও হার মানিয়েছে। একসময় যুজবেন্দ্র চাহাল থেকে হার্দিক পান্ডিয়ার বিবাহ-বিচ্ছেদের গল্প নিয়ে চর্চা জমেছিল নেটমাধ্যমে। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্মৃতি মন্ধানা। গত রবিবারই ছিল তার বিয়ের দিন। বলিউডের জনপ্রিয় মিউজিক ডিরেক্টর পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে জমকালো অনুষ্ঠানে গাঁটছড়া বাঁধার কথা। মহিলা বিশ্বকাপজয়ী দলের বহু সদস্যও আমন্ত্রিত ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। কিন্তু অনুষ্ঠান শুরুর আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন স্মৃতির বাবা, পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বিয়ে আপাতত হচ্ছে না। পরিবারের চিকিৎসক ডা. নমন শাহ জানিয়েছেন, কার্ডিয়াক এনজাইম বেড়ে গিয়েছিল, রক্তচাপ ছিল বিপজ্জনক মাত্রায়। কিছুটা সুস্থ হলেও প্রয়োজন ছিল সম্পূর্ণ বিশ্রাম ও পর্যবেক্ষণের।

এই বিপদের মধ্যেই সামনে আসে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য- পলাশ মুচ্ছল নিজেও নাকি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তবে এখানেই গল্প বদলায়। পলাশের কথিত প্রেমালাপের স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে যায়। অভিযোগ—স্মৃতির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী মেরি ডি’কোস্তার সঙ্গে নাকি গোপনে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন পলাশ। চ্যাটের ভাষা ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। তারপরই বিয়ের সব অনুষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয় দুই পরিবার। পলাশের বোন পলক মুচ্ছল অবশ্য বলেছিলেন—বাবার অসুস্থতার কারণেই বিয়ে পিছিয়েছে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, নানা তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
সূত্রের দাবি, সম্পর্কের ভাঙন আটকাতে পারেননি স্মৃতিই। তিনি নিজেই নাকি বিয়ে ভেঙে দিয়েছেন। সমস্ত ছবি, ভিডিও মুছে ফেলেছেন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পলাশের মা দাবি করেন—ছেলের ওপর প্রচুর মানসিক চাপ ছিল। কান্না আর উদ্বেগে নাকি শারীরিক অবস্থাই খারাপ হয়ে যায়, তাই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। আইভি ড্রিপ, ইসিজি—সবই করা হয়েছে। তবে নেটিজেনদের বড় অংশই এটাকে ‘নাটক’ বলেই উল্লেখ করছেন।
তবে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠে এসেছে পলাশের অতীত সম্পর্কের গল্পও। ২০১৭ সালে বীরভা শাহ নামে এক তরুণীকে রীতিমতো রূপকথার মতো প্রপোজ করেছিলেন পলাশ। নিজের হাতে সাজানো জায়গা, গোলাপের পাঁপড়ি, বেলুন, ক্যান্ডেল—ফিল্মি স্টাইলে হাঁটু গেড়ে প্রপোজ। সেই ছবিও পোস্ট করেছিলেন তিনি নিজেই। আর ঠিক একই ধাঁচে ২০২৫ সালের নভেম্বরেও স্মৃতিকে প্রপোজ করেন পলাশ—মহিলা বিশ্বকাপ জয়ী দলের ঐতিহাসিক মাঠেই। দুই পরিবারের উপস্থিতিতে রোম্যান্সে ভরা সেই মুহূর্ত ভিডিও হয়ে ভাইরাল হয়েছিল।

কিন্তু সেই রূপকথাই যেন দিনে দিনে ভেঙে পড়ছে। অতীতের প্রপোজাল, নতুন চ্যাট লিক, বাবার অসুস্থতা—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সম্পর্কের ভিতর কি আগেই ফাটল ধরেছিল? স্মৃতি কি প্রতারিত হয়েছেন? নাকি পরিস্থিতিই এমন হয়েছিল যে আর পিছু হটা সম্ভব ছিল না? দুই পরিবারের কেউ এখনো মুখ খোলেননি আনুষ্ঠানিকভাবে। কিন্তু ক্রিকেট আর বলিউড দুনিয়ার এই ত্রিমুখী ড্রামা থেকে চোখ সরানো এখন প্রায় অসম্ভব।
এদিকে নেটদুনিয়া তোলপাড়। ‘পালরিতি’ নামে পরিচিত এই জুটিকে অসংখ্য মানুষ কাপল গোলস বলে মনে করতেন। বিরুষ্কার মতোই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল তাদের জুটি। বিয়ের সাজসজ্জা, হাসি-আনন্দের প্রস্তুতি, বন্ধু-পরিবারের উচ্ছ্বাস- সবকিছু যেন এক মুহূর্তে থমকে গেল। সঙ্গে যুক্ত হল হঠাৎ অসুস্থতা, ভাইরাল ইনফেকশন, সম্পর্ক ভাঙার গুঞ্জন।
স্মৃতি- যিনি দেশের জয়সূচকে নতুন ইতিহাস লিখেছেন- হঠাৎ যেন জীবনের এক ব্যক্তিগত ঝড়ে আটকে পড়েছেন। আর সেই ঝড়ের স্রোতেই বয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রশ্ন, অসংখ্য আলোচনার ঢেউ।
এখন দেখার- পালরিতির গল্প কি এখানেই শেষ? নাকি আবার নতুন মোড়ে ফিরবে সম্পর্ক? আপাতত অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট দুনিয়া, বলিউড- আর সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় সেই ভক্তরা, যারা এই জুটির রূপকথায় বিশ্বাস করতে ভালোবাসতেন।