কলকাতা পুরসভার নিকাশি ও পরিষেবা পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ। শহরের দীর্ঘদিনের জলজমার সমস্যা কমাতে বি.বি. গাঙ্গুলি স্ট্রিটের ব্রিটিশ আমলের ইঁটের নিকাশি নালার সংস্কার করা হয়েছে। দেশবন্ধু পার্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই পুর পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী তাপস রায় এবং পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে।

সুস্মিত মজুমদার, নিজস্ব সংবাদদাতা
চৌরঙ্গী বিধানসভা এলাকার প্ল্যানিং ও ডেভেলপমেন্ট দফতরের উদ্যোগে বিবাদী বাগ পূর্ব থেকে এপিসি রোডের সংযোগস্থল পর্যন্ত প্রায় ২.২ কিলোমিটার দীর্ঘ নিকাশি নালার পলি তোলা এবং লাইনিংয়ের কাজ করা হয়েছে। পুরসভার দাবি, এই সংস্কারের ফলে বর্ষার সময় মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমার সমস্যা অনেকটাই কমবে। প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৮ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। মন্ত্রী তাপস রায় জানান, প্রায় ২৪ মাসের কাজ মাত্র ১৩ মাসে শেষ করেছেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। তাঁর দাবি, ব্রিটিশ আমলের ছয় ফুটেরও বেশি গভীর এই নিকাশি নালায় দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে থাকার কারণেই জল নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছিল। ধাপে ধাপে কলকাতার অন্যান্য পুরনো ব্রিক স্যুয়ারকেও একইভাবে লাইনিং করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, মানিকতলা বিধানসভা এলাকার উত্তরণ পরিষেবা দফতরের উদ্যোগে ২৮টি পোর্টেবল বায়ো-টয়লেটও পরিষেবায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ইন্ডিয়ান টাইপ এবং ৮টি ওয়েস্টার্ন টাইপের টয়লেট রয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, গত ১৫ বছরে যে কাজ হয়নি অথবা অত্যন্ত ধীরগতিতে হয়েছে, বর্তমান সরকার সেই কাজ দ্রুততার সঙ্গে করছে। তাঁর দাবি, মাত্র সাড়ে চার মাসের মধ্যে ২৮টি টয়লেট তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পিঙ্ক টয়লেট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষকেও আরও সচেতন হওয়ার বার্তা দেন অগ্নিমিত্রা পাল। রাস্তায় প্রস্রাব বা থুতু না ফেলা, ফুটপাত ও রাস্তায় পার্কিং না করা এবং বাড়ির সামনে ইট-বালি-পাথর ফেলে না রাখার আবেদন জানান তিনি। একইসঙ্গে ডেঙ্গি নিয়েও সতর্ক থাকার বার্তা দেন মন্ত্রী।পরিষেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে বাড়ি বাড়ি কিউআর কোড লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। এর মাধ্যমে কোনও সাফাইকর্মী নির্দিষ্ট বাড়িতে পরিষেবার জন্য গিয়েছেন কি না, তা বোঝা যাবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বর্জ্য পৃথকীকরণের উপরও জোর দেন মন্ত্রী।
প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে দক্ষিণেশ্বর ও কালীঘাটের ছবি দেওয়া কাপড়ের ব্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগের কথাও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে শুধু সরকারের উপর নির্ভর না করে নিজেদের এলাকাতেও সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং প্রত্যেককে ‘কমিউনিটি লিডার’-এর ভূমিকা পালন করতে হবে।