লক্ষ্য ২৬-এর ভোট, কালীপুজোয় চড়ল রাজনীতির পারদ

অমিত শাহকে ‘গুন্ডা’, সুকান্তকে ‘অসুর‘, শুভেন্দুকে ‘পাপী তাপী’ বলে কটাক্ষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের

মাম্পি রায়, সাংবাদিক:  দুর্গাপুজোর পর কালীপুজো বা দীপাবলিতেও রাজনীতির পারদ চড়ল। একদিকে যেমন মায়ের পুজো করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই পুজোয় হাজির হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন তৃণমূল নেতানেত্রীরা। মঙ্গলবার নৈহাটিতে বড় মায়ের পুজো করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে যেমন পুজো করেছেন, তেমনই সেরেছেন জনসংযোগও। তবে পুজোর আবহে রাজনৈতিক কটাক্ষের ফোয়ারাও দেখা গেল বিভিন্ন জায়গায়। রীতি মেনে বাঁকুড়ায় নিজের বাড়িতে কালীপুজো করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজো সেরে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র নিশানা করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহকে ‘গুজরাটের গুন্ডা’ বলে উল্লেখ করলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি “অমিত শাহ জীবনে সংবিধান পড়েননি। পুরো যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দিয়েছেন অমিত শাহ। অমিত শাহর পলিটিক্যাল ব্যকগ্রাউন্ড হল ’গুন্ডামি’। গুন্ডামি করেই গুজরাটে ক্ষমতায়  এসেছিলেন। এখন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও গুন্ডামি করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভেঙে দিয়েছেন অমিত শাহ।“

এসআইআর ইস্যুতে বাং‍লার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংবিধানের ঊর্ধ্বে।“  এই ইস্যু নিয়েই অমিত শাহকে পাল্টা আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে নিয়েও তীব্র আক্রমণ শানান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আগামী বছর শ্রীরামপুরে আমরা থিম করে অসুর তৈরি করব। এর মধ্যে অসুর হিসাবে সুকান্তর মুখটা ভালো মানাবে। সুকান্তকে তো অসুর অসুর দেখতে। তাই অসুর হিসাবে সুকান্ত একেবারে ফিট ক্যান্ডিডেট।“

একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীকে ‘পাপী তাপী’ বলেও উল্লেখ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “মায়ের কাছে প্রার্থনা করলাম ২৬-এর ভোটে উনি যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেক বেশি করে আশীর্বাদ করেন। বিজেপি যাতে শূন্য হয়ে যায়। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহর মুখ যেন ভোঁতা হয়ে যায়। শুভেন্দু অধিকারীর মতো ‘পাপী তাপী’-গুলো, অসুরগুলো যাতে সরে যায়। এসআইআর নিয়ে বিরোধিতা চলছে চলবে। একটাও জেনুইন ভোটারের নাম কাটতে দেব না। পারলে সিআইএসএফ বা সিআরপিএফ দিয়ে গুলি চালাক, তাও কোনও লাভ হবে না। এটা উত্তরপ্রদেশ বা গুজরাট নয়। এটা পশ্চিমবঙ্গ। ১৯৪৭ সাল থেকে বাংলা এসব দেখছে। আমি তো জানি খুব বড় একজন বিজেপি নেতার মা পাকিস্তানি। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান থেকে এসেছেন। আগে তার কাগজ চান। দেখাতে না পারলে বিজেপি নেতাকেই বের করে দিতে হবে।“

কয়েকদিন আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন, “পশ্চিমবঙ্গকে সোজা করতে গেলে মায়ের খড়্গ হাতে নিতে হবে।“ এই নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছেন হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীপুজোর মণ্ডপ পরিদর্শনে বেরিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর অধিকারীকে পাল্টা নিশানা করে রচনা বলেন,  “মা কালীর খড়্গ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে মানায়।“ শুভেন্দুকে ঘিরে বিক্ষোভ নিয়ে রচনা বলেন, “কুমন্তব্য হলে তো মহিলারা তাড়া করবেই।“

সবমিলিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে আক্রমণের তীব্রতা। জমে উঠেছে শাসক ও বিরোধীদের বাকযুদ্ধ, তা বলাই বাহুল্য।