সংবিধান যেখানে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে, সেখানে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ কেন? এই প্রশ্ন তুলে ‘পিস বন্ড’ বা শান্তির মুচলেকায় সই করতে অস্বীকার করল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)। সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার অভিযোগ, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ দমন করতে এই মুচলেকাকে হাতিয়ার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের নির্দেশের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
শনিবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে নেহা বলেন, ‘‘এক দিকে সংবিধান আমাদের ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার দিয়েছে। অন্য দিকে, শান্তিভঙ্গের অভিযোগ তুলে মানুষকে আটক করতে এই ধরনের মুচলেকা ব্যবহার করা হচ্ছে।’’ তাঁর দাবি, গত ১৬ অক্টোবর মান্ডি হাউসে বিক্ষোভ দেখানোর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। এর পরেই শান্তিভঙ্গের অভিযোগে মুচলেকার প্রসঙ্গ ওঠে।
নেহার বক্তব্য, শান্তির নামে এমন শর্ত মেনে নেওয়া মানে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকার খর্ব করার পথ প্রশস্ত করা। আদালতকে এই সাংবিধানিক অসঙ্গতি বুঝতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তাঁদের আবেদন আদালত খারিজ করেনি বলেও দাবি নেহার। তাঁর ব্যাখ্যা, আদালত মামলার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্তে অংশ নেওয়ার কথা বলেছে। শো-কজ নোটিস জারি করেই কাউকে মুচলেকায় সই করতে বাধ্য করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈঠকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়েও সরব হন নেহা। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ায় ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নেহার প্রশ্ন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করাই কি শান্তিভঙ্গ? তাঁর অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের উপর লাঠিচার্জ, মহিলা ও সাংবাদিকদের হেনস্থার মতো ঘটনা ঘটেছে পুলিশের তরফে। তাই শান্তি বজায় রাখার দায়িত্ব শুধু প্রতিবাদীদের নয়, প্রশাসনেরও। আইসার বক্তব্য, গণতন্ত্রে শান্তি মানে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নেওয়া নয়।