বিডিওকে টেবিল চাপড়ে ধমকালেন মনোজ টিগ্গা। হঠাৎ এমন রণমূর্তি কেন ধারণ করলেন বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা?
সুপ্রিয় বসাক, নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিনেও সরকারি সাহায্য পৌঁছয়নি দুর্গত এলাকায়। এমন পরিস্থিতিতেই মঙ্গলবার মাদারিহাটে বিডিও অফিসে হাজির হলেন বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়েই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে ঘটনা ঘটে, তাতে রাজনৈতিক মহলে তৈরি বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অফিসে ঢুকেই বিডিও অমিত চৌরাসিয়ার সঙ্গে বচসায় জড়ান সাংসদ। মুহূর্তেই উত্তপ্ত হতে থাকে পরিস্থিতি। টেবিল চাপড়ে, আঙুল উঁচিয়ে অপমানজনক কথা বলতে শোনা যায় মনোজ টিগ্গাকে। এমনকি, বিডিওকে ‘তৃণমূলের পতাকাবাহী অফিসার’ বলেও কটাক্ষ করেন মনোজ। তবুও মেজাজ হারাননি আধিকারিক। শান্তভাবে সাংসদকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিছুক্ষণ উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর শেষে অফিস ছেড়ে চলে যান সাংসদ।

বিজেপি সাংসদের এই আচরণ ঘিরে তোলপাড় রাজনৈতিক মহলে। শাসকদলের কটাক্ষের মুখে বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক বলেন, “ডব্লিউবিসিএস অফিসারের সামনে নিজের শক্তি প্রদর্শন করেছেন সাংসদ প্রকাশচিক বরাইক। এদের মাথা পাগল হয়ে গেছে। এর আগে আমরা দেখেছি কুমারগ্রামের বিধায়ক একজন বয়স্ক লোককে ইনি ধাক্কা দিয়েছেন। ত্রাণ বিলির নামে দুই প্যাকেট মুড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে ৩০০টা বাড়ি। ৩টে বাড়িতেও ত্রাণ দিতে পারেননি। মানুষ প্রশ্ন করেছেন, ৫বছর আপনি কোথায় ছিলেন, কী করেছেন ? তারপরই বয়স্ক বিধায়ককে ধাক্কা দিয়েছেন। এবার ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে যেভাবে ধমকেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এই কাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। আমি ধিক্কার জানাই। এরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কিছুই করে না। মানুষের পাশে থাকে না। মানুষকে পরিষেবা দেয় না। আমি নিজেও ১ লক্ষ টাকা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে দিয়েছি। এরা কিছুই দেয় না। প্লাস্টিক বিলির নামে মস্তানি করেছে। উত্তরবঙ্গে এবার তৃণমূল কংগ্রেসই জিতবে। ”

পাল্টা মনোজ টিগ্গা বলেন, ”আমাদের মাদারিহাট ব্লকের চা শ্রমিক এবং গরিব মানুষরা সবসময় সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও পঞ্চায়েত থেকে কোনও সুযোগ সুবিধা পান না। আমাদের পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা এবং বিরোধী সদস্যদের জন্য সামান্য বসার ব্যবস্থাও করা হয়নি। নির্বাচিত সদস্যরা ত্রাণ চাইলে দেয় না। অথচ তৃণমূলের সদস্যদের হাতে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে, তাদের সঙ্গে ত্রাণ বিলি করা হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে আমরা ওরা কেন করছে বিডিও অফিস ? বারবার বলা সত্বেও বিডিও কান দেননি। তাই আমরা সকলে মিলে কথা বলতে গিয়েছি। বারবার বলেও কথা না শুনলে কী ভাষায় বোঝাতে হয় ভারতীয় জনতা পার্টি জানে। এরপরেও না শুধরালে ডিসেম্বরে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে বিডিও অফিস ঘেরাও করবো।”
পুজোর পরপরই হড়পা বানে বানভাসি হয় উত্তরবঙ্গ। চা বাগানের বহু শ্রমিক পরিবার বিপর্যস্ত। তাঁরা এখনও পর্যন্ত ত্রাণসামগ্রী পাননি বলেই অভিযোগ। একটি ত্রিপলও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা।