এক ক্লিকে সব তথ্য ফাঁস

ইন্টারনেটে এমন এক জায়গা রয়েছে, যেখানে ফোন নম্বর দিয়ে শুধুমাত্র একটা ক্লিক।  ব্যাস, মিনিটও নয়., সেকেন্ডে আপনার সমস্ত তথ্য চলে আসবে হ্যাকারদের হাতের মুঠোয়

অনুসুয়া দাস, নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্প্রতি নরেন্দ্র মোদীর সরকার এক ঘোষণা করেছিল। কী সেই ঘোষণা। এক নয়া অ্যাপের কথা বলেছিল। তা হল সঞ্চার সাথী অ্যাপ। কার্যত বলা যেতে পারে বিতর্কের  এক নাম হয়ে দাঁড়ায় এই‘সঞ্চার সাথী’। বিগত কয়েক দিন ধরে অ্যাপটিকে কেন্দ্র করে বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে দেশ জুড়ে। অ্যাপটি নিয়ে একাধিক যুক্তি দিয়েছেন বিরোধীরা। পাল্টা যুক্তি দিয়েছে কেন্দ্রও। ২৮ নভেম্বর ভারতে বিক্রি হওয়া সব ফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করা থাকতে হবে বলে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রক -এর তরফে ফোন প্রস্তুতকারী সব সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যে স্মার্টফোনগুলি ইতিমধ্যে বাজারে এসে গিয়েছে, সেগুলিতেও সফ্‌টঅয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ওই সরকারি অ্যাপটি প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার  বা ইনস্টল করার কথা বলেছিল কেন্দ্র। অ্যাপ্‌ল, স্যামসাং, শাওমি, ভিভো এবং অন্য নির্মাতাদের ৯০ দিনের মধ্যে প্রি-ইনস্টলেশন প্রক্রিয়াটি শেষ করতে এবং ১২০ দিনের মধ্যে প্রি-ইনস্টল নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।  তবে বিতর্ক মাথাচাড়া দিতেই ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ বাধ্যতামূলক ভাবে স্মার্টফোনে প্রি-ইনস্টল করার বিষয়ে সুর নরম করেছে মোদীর সরকার। ৩ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত পূর্ববর্তী নির্দেশ প্রত্যাহার করার কথাও ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় সরকার।

সঞ্চার সাথী অ্যাপ নিয়ে যখন বিতর্ক দেশজুড়ে, তখন সোশ্যাল মাধ্যমে এক নতুন ওয়েবসাইটের সন্ধান। ওয়েবসাইটের নাম proxy earth dot org ।এই ওয়েবসাইটে আপনি যদি কোনও ফোন নম্বর দেন, তাহলে যার ফোন নম্বর দিচ্ছেন, তার সম্বন্ধে জানতে পারবেন, সমস্ত কিছুই।  এতে করতে হবে না কোনও লগিং। আর বাকি থাকল, যার ফোন নম্বর. ওয়েবসাইটে দিয়েছেন. তার কাছে ওটিপি, যাবে কিনা ? একদমই নয়, ফোন নম্বরের মালিকের কাছে যাবে না কোনও ওটিপি। ওয়েবসাইটে ফোন নম্বরটি দিয়ে ক্লিক করলেই হয়ে যাবে সমস্ত কাজ।

ওয়েবসাইটে ফোন নম্বর দিয়ে ক্লিক করলে , সামনে আসতে পারে আপনার বাড়ির গুগল লোকেশন।  বাড়িতে কে কে রয়েছেন, মোট কতজন সদস্য রয়েছেন। তাও জানা যাবে।  সামনে আসতে পারে সমস্ত ধরণের আইডি নম্বর। একটা ক্লিকে পাওয়া যাবে আধার কার্ড. ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্টের সমস্ত তথ্য। এখানে বাদ যাবেন না কোনও অভিনেতা , মন্ত্রীও। এই ওয়েবসাইটে মন্ত্রী বা অভিনেতার নম্বর দিয়ে ক্লিক করলেই মিলবে তাঁদের সমস্ত পার্সোনাল তথ্য। এই ওয়েবসাইটে গেলে কোনও ব্যক্তির লাইভ লোকেশনও মিলতে পারে।

এবার আসা যাক, ধরুন, আপনার এই তথ্য বা নথিগুলি হ্যাকাররা পেয়ে গেল, তাহলে কী কী হতে পারে। এই যে ডেটা বা তথ্য যাই বলা যাক, তা লিক হওয়ার চান্স বেশি থাকে টেলিকম কোম্পানি থেকে। অনেক ওয়েবসাইট এই বিষয়ে রিপোর্টও করেছে ইতিমধ্যে।  এই ওয়েবসাইটের বয়স আনুমানিক দেড় মাস হবে। তদন্ত শুরু হয় এই ওয়েবসাইটের উপর। ২০২৫-র ১৭ অক্টোবর এই ওয়েবসাইটটি রেজিস্টার হয়। তারপর এই ওয়েবসাইটে ডেটা আপলোড হয়।  জানা যায় ১০ থেকে ১২ জন মিলে এই ওয়েবসাইট চালান। যাদের মধ্যে মূল যে কালপিট, সে হল রাকেশ বলে কোনও এক ব্যক্তি। তবে তাকে এটাও বলতে শোনা যায়, কোনওদিন যদি তার তৈরি্ এই ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে সে দ্বিতীয় অন্য কোনও ওয়েবসাইট খুলে নেবে। মানে বলা যেতে পারে রাষ্ট্রকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ল এই রাকেশ। এবার দেখা যাক প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।