ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু পরিবারের পক্ষ থেকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের অকালমৃত্যু। ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ল গোটা এলাকা। অভাবের সংসারে হাল ধরতে ভিনরাজ্যে পাড়ি যুবকের। তারপর সেখান থেকেই এল মৃত্যু সংবাদ। পরিবারের সদস্যের মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পরিবারের লোকজন। ঘটনাকে ঘিরে চরম উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে প্রতিবেশীদের মধ্যেও।
জানা গিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম মঞ্জুর আলম লস্কর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। সংসারের অভাব ঘোচাতে ১০ বছর ধরে অন্ধ্রপ্রদেশের একটি জরির কারখানায় কাজ করতেন মঞ্জুর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার অন্তর্গত রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের গড়খালি এলাকার বাসিন্দা মঞ্জুর। ১০ বছর আগে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ পিটিয়ে খুন করা হয়েছে, ওই যুবককে।
পরিবারের দাবি, গত সোমবার যে কারখানায় কাজ করতো ওই যুবক সেই কারখানা থেকে ২৫ হাজার টাকা ফোনের মাধ্যমে চাওয়া হয় না হলে ওই যুবককে মেরে ফেলা হবে, এমনই হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ওই যুবকের পরিবার ৬,০০০ টাকা অনলাইনে ওই ফোন নম্বরে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার রাতে পরিবারের কাছে খবর আসে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু সংবাদ পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্তের পর ওই যুবকের মৃতদেহ নিয়ে আসা হচ্ছে গড়খালি এলাকায় ওই যুবকের বাড়িতে। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করা হচ্ছে। পরিবারের আর্থিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় তাঁরা। এ বিষয়ে ওই মৃত যুবকের পরিবারের সদস্য আলাউদ্দিন নস্কর বলেন, “গত ১০ বছর ধরে মঞ্জুর অন্ধ্রপ্রদেশের একটি জরির কারখানায় কাজ করতো। গত সোমবার ওই কারখানা থেকেই ফোন করা হয় পরিবারের কাছে ফোন করে পঁচিশ হাজার টাকা চাওয়া হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ৬০০০ টাকা দেওয়া হয়। তারপর মঙ্গলবার রাতে আমাদের কাছে খবর আসে যে মঞ্জুর মারা গিয়েছে। আমাদের অনুমান মঞ্জুরকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
মৃত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবিও উঠেছে। মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একটি তরতাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়ায় শুধু একটি পরিবার নয়, শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা ফের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল।