বিএলও ও তাঁর স্বামীকে নিগ্রহের অভিযোগ !

প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতার হাতে নিগৃহীত বিএলও এবং তাঁর স্বামী। জমি মাফিয়া ওই নেতার নির্দেশমতো ফর্ম ফিল আপ না করায় মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ।

বিশ্বজিৎ মণ্ডল, নিজস্ব সংবাদদাতা:  এ যেন মগের মুলুক। এসআইআর ফর্ম ফিলা আপ করতে হবে তাঁর নির্দেশে। বিএলও রাজি না হওয়ায়। বেজায় চটেছেন এলাকার কংগ্রেস নেতা। নেতা চটেছে বলে কথা , তাই সাঙ্গপাঙ্গরা কি চুপ করে বসে থাকতে পারে ? সবক শেখাতে হবে না। তিনি আবার এলাকার প্রভাবশালী জমি মাফিয়া। তাঁর কথায় অনেকেই ওঠবোস করে আরকি। এলাকায় ভালোই প্রভাব। নেতার কথা না শোনায়  খেসারত দিতে হল বিএলও ও তাঁর স্বামীকে। মহিলা বিএলওকে হুমকির পাশাপাশি তাঁর স্বামীকে মারধর, গোপানাঙ্গে আঘাত। ওই বিএলওর স্বামী এখন  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মালদার হরিশ্চচন্দ্রপুর থানা এলাকার সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় ডাটিওন গ্রামে। ওই গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্ব শিক্ষিকা নিবেদিতা মন্ডল এসআই আর এর কাজের জন্য বিএলওর পদে নিযুক্ত রয়েছেন এলাকায়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে পার্শ্ববর্তী রাধিকাপুর বালুয়া টোলার গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য মোহাম্মদ কসিমুদ্দিন দীর্ঘ কয়েক দিন ধরেই নিবেদিতা এবং তার স্বামী কমল মন্ডল কে উত্যক্ত করছিলেন। শিক্ষিকা এবং স্বামীকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন এলাকায় তাঁরই নির্দেশেই এস আই আর এর ফর্ম ফিলাপ করতে হবে। ফর্ম বিলি থেকে ফর্ম সংগ্রহের সমস্ত কাজ তার নির্দেশ মেনেই হবে। কিন্তু নিবেদিতা এবং তার স্বামী এই নির্দেশ না মানায় জমিতে একা পেয়ে নিবেদিতার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে এলাকায় জমি মাফিয়া বলে পরিচিত কসিমুদ্দিন। নিবেদিতার স্বামী কমলের অন্ডকোষ চেপে ধরে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়।। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রাক্তন কংগ্রেস মেম্বার কোশিমদ্দীন এলাকায় প্রভাবশালী জমি মাফিয়া বলে পরিচিত। এর আগেও এলাকায় বেআইনি সালিশি সভার নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশকেও মারধর করার অভিযোগ উঠে ছিল তার বিরুদ্ধে। সমস্ত ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে অভিযোগ এর ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এদিকে গোটা ঘটনায় লেগেছে রাজনৈতিক রং।  কংগ্রেসের দাবি কসিমুদ্দিন বর্তমানে তাদের দলের কেউ নয় সে শাসকদল আশ্রিত। অন্যদিকে বিজেপির দাবি রাজ্যের শাসক দল চাইছে এলাকার সমাজবিরোধীদের দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে এস আই আর এর ফর্ম ফিলাপ করাতে। বুথ লেভেল অফিসাররা এর প্রতিবাদ করলেই জুটছে মারধর।।

বিএলও রা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে কাজ করবে। এলাকার নেতাদের কথাতে কেন কাজ করবে। এ কেমন দাবি। এ তো বাচ্চাকে ললিপপ কিনে দেওয়া নয় যে চাইলাম আর দিয়ে দিলাম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গোটা দেশেই লাগু হয়েছে এসআর সংক্রান্ত নিয়ম। আর এই পদ্ধতিতে কেনই বা প্রভাব খাটাবে রাজনৈতিক নেতারা। যা নিয়েই শুরু হয়েছে তরজা।