CAPFs নিয়োগেও মেডিক্যাল বোর্ডের বেনিয়মের অভিযোগ। কল্যাণী এইমস-এর কাছে রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: সেন্ট্রাল আর্মস পুলিশ ফোর্স সার্ভিসে (CAPFs) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেডিক্যাল পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সরব হল কলকাতা হাইকোর্ট। বাঁকুড়ার যুবক আকাশ নন্দীর মামলার ভিত্তিতে মেডিক্যাল রিভিউ বোর্ডের রিপোর্ট-এর মান্যতা দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। প্রার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা করে কল্যাণী এইমসকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে কড়া নির্দেশ আদালতের।
স্টাফ সিলেকশন কমিশন-এর ২০২৫ সালে CAPFs নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন আকাশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষাতেও (দৌড়, লং জাম্প, শর্ট জাম্প) সফলভাবে পাশ করেন তিনি। এরপর মেডিক্যাল পরীক্ষাতেও প্রাথমিকভাবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। তবে পরীক্ষকদের সন্দেহের কারণে তাঁকে দুর্গাপুরে মেডিক্যাল রিভিউ বোর্ডের সামনে হাজির হতে বলা হয়।
আকাশের অভিযোগ, বহু বছর আগে তাঁর হাতের হাড়ে টিউমার হয়েছিল। বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসার পর তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। তারপর দেশ সেবার স্বপ্ন পূরণের আর্মিতে নিয়োগ পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য করে তোলেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তাকে আর্মিতে নিয়োগের জন্য ফিট সার্টিফিকেট দেয়। সেই সমস্ত মেডিক্যাল নথি জমা দেওয়ার পরও রিভিউ বোর্ড তাঁকে ‘আনফিট’ বলে ঘোষণা করে। অভিযোগ, বোর্ডে কোনও অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। বাইরে থেকে সংগৃহীত রিপোর্টের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মামলাকারীর দাবি, ২৪ নভেম্বর ২০২৫-এ মেডিক্যাল রিভিউ হয়। নিয়োগ সংক্রান্ত যে নির্দেশিকা জারি হয়েছিল, তাতে এই ধরনের রোগকে অযোগ্যতার কারণ হিসেবে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। হতাশ হয়ে আকাশ বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করান। সেখানে অর্থোপেডিক বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর তাঁর সমস্ত পরীক্ষা করে জানান, সামরিক বাহিনীর চাকরির জন্য তিনি সম্পূর্ণ উপযুক্ত।
শুধু আকাশ নন, তাঁর অভিযোগ—এভাবেই বহু যোগ্য প্রার্থীকে বাইরে থেকে রিপোর্ট এনে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত করেছে মেডিক্যাল রিভিউ বোর্ড ।
মামলাকারীর আইনজীবী আশিষ কুমার চৌধুরী আদালতে জানান, দু’টি কারণে আকাশকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। প্রথম বিষয়ে রিভিউ মেডিক্যাল বোর্ড অনুমতি দিলেও দ্বিতীয় বিষয়ে সম্পূর্ণ পরীক্ষা না করেই তাঁকে শারীরিকভাবে অযোগ্য বলে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। মামলাকারীর জমা দেওয়া মেডিক্যাল রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়নি বলেও অভিযোগ। বোর্ডে কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, “ অপারেশনের পর সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও এবং লিখিত ও শারীরিক পরীক্ষায় পাশ করার পরও কীভাবে একজন প্রার্থীকে ‘আনফিট’ বলা হয়? সন্দেহ থাকলে কেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামত নেওয়া হয়নি” —এই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কেন্দ্রের আইনজীবীর উদ্দেশে।
আদালত মেডিক্যাল রিভিউ বোর্ডের রিপোর্টে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, “কল্যাণী এইমস-এ আকাশের পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল পরীক্ষা করিয়ে তার রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।“
পাশাপাশি, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের রিপোর্টের সঙ্গে এইমস-এর রিপোর্ট মিলে গেলে কেন তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কেন্দ্রকে ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আকাশের ভাগ্য আর আর্মিতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন পূরণের বিষয়টি এখন পুরোটাই কলকাতা হাইকোর্টের হাতে। মামলার পরবর্তী শুনানি ৩ ফেব্রুয়ারী।