ভোটবঙ্গে হুমায়ুন ও শাহর তোপ, তপ্ত ময়দান

“কান খুলে শুনে নাও, বাংলার মাটিতে কোনও মায়ের ব্যাটা বাবরি মসজিদ বানাতে পারবে না। ” হুমায়ুন কবীরকে তোপ শাহর। “ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক”- পাল্টা হুমায়ুন কবীর।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটের মুখে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর-এর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়। তা নিয়ে বুধবার সরাসরি মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বলেন, “কান খুলে শুনে নাও, বাংলার মাটিতে কোনও মায়ের ব্যাটা বাবরি মসজিদ বানাতে পারবে না। ” একই সঙ্গে পাল্টা আক্রমণে শান দিয়ে রাজনৈতিক ময়দান তপ্ত করলেন হুমায়ুন কবীর নিজেও। তিনি বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আটকে দেখাক।”

বিতর্কের সূত্রপাত সেই ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল, তৃণমূল সরকার ফেলার জন্য বিজেপির সঙ্গে হাজার কোটি টাকার ডিল করেছেন হুমায়ুন কবীর। শাসকদলের তরফে সেই অভিযোগ সামনে আনা হলেও, ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ‘জাল’ এবং ‘এআই-নির্মিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “ওরা বলছে আমি ৪০০ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের তল্লাশিতে ২ লক্ষ টাকা পেলেই নিয়ে যায়। আর আমি এত টাকা কোথায় লুকিয়ে রাখলাম—যে কেউ খুঁজে বের করতে পারছে না ?” একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে হুমায়ুন বলেন, প্রমাণ দিতে না পারলে আইনের দ্বারস্থ হবো।

এ দিন আক্রমণের সুর আরও চড়ান হুমায়ুন। প্রকাশ্য সভা থেকে অমিত শাহ-কে লক্ষ্য করে তাঁর মন্তব্য, “যদি বাপের ব্যাটা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমার বাবরি মসজিদ ভেঙে দেখাক।” পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “ক্ষমতা থাকলে আমাকে গ্রেফতার করে দেখান।”

অন্য দিকে, শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপি ও হুমায়ুন কবীরের মধ্যে কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর কথায়, “হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরুর মতো—কখনও এক হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ তোলেন, এই ধরনের একাধিক ভুয়ো ভিডিও তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। যারা বাংলায় ‘বাবরি মসজিদের প্রতিরূপ’ গড়ার কথা বলে, বিজেপি কোনও ভাবেই এমন কোনও শক্তির সঙ্গে হাত মেলাবে না—এ কথাও স্পষ্ট করেন তিনি।

শাহ আরও দাবি করেন, হুমায়ুন কবীর আসলে শাসকদলের ‘এজেন্ট’ এবং বিরোধী ভোট ভাগ করতেই নতুন দল গঠন করেছেন তিনি। শালর কথায়, “এই পবিত্র মাটিতে কেউ বাবরি মসজিদ তৈরির কথা ভাবতে পারে না বিজেপি।”

ডিসেম্বরে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক দল- আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন হুমায়ুন কবীর। মালদা ও মুর্শিদাবাদে তাঁর প্রভাব এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলেই রাজনৈতিক মহলের অনুমান। তারই মধ্যে এই ভাইরাল ভিডিও এবং বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ভোটের আগে উত্তেজনা আরও তুঙ্গে উঠল।