মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, বিধবা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের মাসে ২ হাজার টাকা ভাতা, এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫ লক্ষ টাকা।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা ও নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির জনসভা থেকে তিনি সন্দেশখালি-সহ একাধিক ঘটনাকে সামনে এনে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কড়া সুরে আক্রমণ করেন।
শাহর অভিযোগ, বর্তমান শাসনকালে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা ভেঙে পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘মমতা দিদির আমলে বাংলার মা-বোনেরা নিরাপদ নন। সন্দেশখালিতে বছরের পর বছর ধরে অত্যাচার চলেছে।’’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সন্দেশখালি থেকে আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ বা দক্ষিণ কলকাতার আইন কলেজ—সব ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে জেলে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালি ২০২৪ সালে ব্যাপকভাবে আলোচনায় উঠে আসে, যখন স্থানীয় মহিলারা শাসকদলের এক নেতা শাহজাহানের বিরুদ্ধে জমি দখল ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন। অন্যদিকে, কলকাতার আরজিকর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক চিকিৎসক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ঘিরে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় রাজ্যজুড়ে।
এই ইস্যুগুলিতে হাতিয়ার করে এবার শালবনির সভা থেকে শাহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন শাহ। তিনি জানান, বিজেপি সরকার গড়লে রাজ্যের মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। একই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে বেকার যুবকদেরও। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
এছাড়া, মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, বিধবা, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের মাসে ২ হাজার টাকা ভাতা, এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার প্রতিশ্রুতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুবকদের শিল্প স্থাপনের জন্য ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
সরকারি কর্মীদের ক্ষেত্রেও সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা দ্রুত কার্যকর করা এবং ৪৫ দিনের মধ্যে মহার্ঘ ভাতা মেটানোর আশ্বাস দেন তিনি।
সভায় বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর প্রসঙ্গ টেনে শাহ অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার ইতিহাস বিকৃত করছে। তাঁর দাবি, ‘‘যে সরকার ক্ষুদিরাম বসুকে সন্ত্রাসবাদী বলে, তাদের ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।’’
শেষে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ‘বাংলাকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লড়াই’ হিসেবে তুলে ধরে ভোটারদের বিজেপির পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলপ্রকাশ। ওইদিনই স্পষ্ট হবে, শাহর বক্তব্য কতটা ছাপ ফেলতে পারল সাধারণ ভোটারদের মনে।