চক্ষু চড়কগাছ অমিতাভ বচ্চনের!

উত্তরপ্রদেশের ভোটার তালিকায় বিগ বি-র নাম?

মৌমুসী সাহা, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ এস আই আর অর্থাৎ স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের কাজ চলছে পুরোদমে। গোটা দেশজুড়ে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। সাধারণ আমজনতা থেকে তাবড় তারকা, সকলেই এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। কেউই বাদ যাচ্ছেন না সেখান থেকে। কোথাও কেথাও দেখা যাচ্ছে অসংগতি। ঠিক যেমন এসআইআর তালিকায় অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে প্রকাশ্যে অবাক করার মতো তথ্য সামনে এসেছে। অমিতাভ জুহুর ভোটার বহু বছর ধরে, ভোট দিতে এসে ক্যামেরা বন্দীও হয়েছেন বহুবার। এস আই আর করতে গিয়ে জানা গিয়েছে, অমিতাভ নাকি আদতে ঝাঁসির ভোটার। এস আই আর ভেরিফিকেশন করতে পৌঁছেই চক্ষু চড়ক গাছ বি এল ওর। ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখতে গিয়ে এহেন তথ্য সামনে আসাতে অবাক সকলে। অমিতাভের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চনেরও নাম রয়েছে ওই কেন্দ্রের ভোটার তালিকাতে।মুম্বইয়ের বাসিন্দা হয়েও উত্তরপ্রদেশের ভোটার অমিতাভ বচ্চন। এটা কী করে সম্ভব? তোলপাড় ফেলে দিল যোগীরাজ্যের এসআইআর ফর্ম। জানা গিয়েছে, ঝাঁসির ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বলিউড শাহেনশার নাম এবং বংশপরিচয়। আর এহেন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল। এতো ঠিক যেন ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’র মতো ব্যাপার!

ঝাঁসির ভোটার লিস্ট দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়েছে বিএলওদের। দেখা গিয়েছে, ২০০৩ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় রয়েছে বচ্চনদের নাম। ঝাঁসির ইআরওয়ের তরফে প্রকাশ্যে আনা তালিকা অনুযায়ী, ওর্চা গেট সংলগ্ন এলাকার ৫৪ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা অমিতাভ বচ্চন। আরো অবাক হন  বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার জোগাড় হয় যোগীরাজ্যের বিএলওদের! কারণ ৫৪ নম্বরে কোনও বাড়ির অস্তিত্বই নেই। বরং সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে আস্ত এক মন্দির। সেখানে ঝাঁসির কাচিয়ানা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় কীভাবে বিগ বি’র যোগ হল? সন্দিহান সেখানকার বিএলওরাও। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞেস করায়, তাঁরা যা বলেন তাও চমকে দেবার মতো, তারা জানান যে অমিতাভ বচ্চনকে এযাবৎকাল শুধু সিনেমার পর্দাতেই দেখেছেন তাঁরা। বাস্তবে ওই পাড়ায় কোনওদিন পা-ই রাখেননি শাহেনশা। স্থানীয়দের কথায়, অমিতাভ তো দূরস্থ, কাচিয়ানায় বলিউড তারকার কোনও আত্মীয়ের বাড়িও নেই। এহেন ‘অদ্ভুতুড়ে’ ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর ঝাঁসিজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ যেখানে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গিয়ে সাধারণ মানুষের জুতোর শুকতলা খুইয়ে যাচ্ছে, সেখানে অমিতাভ এবং তাঁর বাবা মহারাষ্ট্রের ভোটার হলেও কেন তাঁদের নাম ঝাঁসির ভোটার তালিকায় রয়েছে? সরকারি ত্রুটি নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তাঁরা। কারণ বিগ বির ক্ষেত্রে যদি এরূপ হয় তবে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে তা ভেবেই চিন্তায় সকলে। বিস্ময়ের শেষ নেই। ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ওই ৫৪ নম্বর বাড়িতে নাকি আরও এক পরিবারের নাম রয়েছে। তবে তালিকায় উল্লেখিত ঠিকানায় এই মুহূর্তে কোনও বাড়ি নেই। বাড়ির বদল রয়েছে মন্দির। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সেখানের জেলা প্রশাসনিক ভবন থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং বিগ বির নাম বাদ দেওয়ার তোড়জোর শুরু হয়ে গিয়েছে।

তবে অমিতাভ বচ্চন শুধু অভিনেতা নন তিনি একজন কৃষকও বটে। না এমনটা আমি বলছি না। তিনি নিজে বলেছিলেন। একটা সময় ১৯৯০ সালে মহারাষ্ট্রের লোনাওলাতে চাষযোগ্য জমি কেনেন তিনি। কিন্তু সেখানকার আইনে বলা হয়েছে, যে কেবলমাত্র কৃষকরাই জমি কিনতে পারেন। সুপ্রিম কোর্ট অবধি পৌঁছয় মামলার জল। শেষে ইউ পিতে প্রায় ১৫ একর জমি কেনেন বিগবি। শুধু তিনিই নন, তার স্ত্রী জয়া এবং ছেলে অভিষেকও একইভাবে জমি কেনেন যা প্রায় ৩.৮২ কেটি টাকার সমান। কৃষি আইনে বলা হয়েছে, চাষযোগ্য জমি থাকলে আয়করে ছাড় পাওয়া যায়। তবে শুধু বিগ বি এবং তার পরিবার নয়।অনান্য বলিউড সেলেবরাও একই ভাবে কৃষি জমি কিনে রাখেন। আয়কর বাঁচানোর জন্য সবচেয়ে সহজ উপায় উত্তর প্রদেশের চাষযোগ্য জমি কেনা। তবে জমি কেনার সাঙ্গে কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, ভোটার তালিকায় বিগ বির নাম থাকার সঙ্গে সে বিষয়েও নজর থাকছে। যদিও বিগ বি এ বিষয়ে কোন মক্তব্য করেননি, তবে সাধারণ মানুষের এ নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। কেউ বলছেন বড়সরো ভুল, কেউ বলছেন পরিকল্পিত ছক। তবে সত্যিটা ঠিক কি তার উত্তর জানার অপেক্ষায় সকলে।