নানান সময়ে অমিতাভ বচ্চনের নানান সিক্রেট ফাঁস হল কেবিসির মঞ্চে
মৌসুমী সাহা, সাংবাদিক: বয়স তাঁর ৮৩। যে বয়সে ভালো করে হাটার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সেই বয়সে তিনি দৌড়চ্ছেন। কেবিসির মঞ্চে দৌড়তে দৌড়তে আসছেন। এক দিন নয়, প্রায়দিনই। ক্যামেরার সামনে রোজ লাইট ক্যামেরা অ্যকশন মোডে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান। প্রাণশক্তিতে এতটাই ভরপুর কিংবদন্তি অভিনেতা মিষ্টার বচ্চন। যিনি দীর্ঘ অনেকগুলো বছর কেবিসির মঞ্চে এভাবেই জমিয়ে রেখেছেন। নানা প্রান্তে কখনও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা, কখনও আমজনতাকে নিয়ে হট সিটে তার গম্ভীর কন্ঠস্বর। যা সকলকেই অভিভূত করে। শুধু কি তাই ? বহুসময় নিজের ব্যাক্তিগত নানা অভিমত নিয়েও চর্চা চলে। আর তা তো হবেই। বিগবি বলে কথা। প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে প্রতিযোগীদের যখনই বিগ বি বলে ওঠেন, “লক কর দিয়া যায়ে”। সঠিক উত্তর দিলেও প্রতিযোগীরা কেমন যেন একটা সংশয় বোধ করেন, ”লক কর দিয়া যায়ে” শুনে মনটা কেমন দুরু দুরু করে। শেষের উত্তর ঠিক হলে হাফ ছেড়ে বাঁচেন প্রতিযোগীরা। জিতে নেন লক্ষ লক্ষ টাকা তবে গোটা এপিসোড জুরে টানটান উত্তেজনা থাকে ।তবে প্রতিযোগীকে সহজ করার জন্য মাঝে মাঝে নানান বিষয় আলোচনা করে থাকেন বিগ বি। আবার অনেকসময় বিগ বি-কে সামনে পেয়ে নানান প্রশ্ন করে থাকেন প্রতিযোগীরাও। বিগ বি-র অভিনয়, তাঁর ব্যাক্তিগত জীবন নিয়েও। কখনও খুব মজা করে আবার কখনও আশ্চর্য হয়ে গেলেও উত্তর দিয়েই থাকেন বিগ বি।

টেলিভিশন অভিনেত্রী আরতি সিং সম্প্রতি অমিতাভ-এর সঙ্গে কওন বনেগা করোরপতি সেটে ছবি পোস্ট করে বলেন, ”ম্যায়নে ইতনৈ বিনম্র ইনসান নেহি দেখা” – এমনটাই বলেন বিগ বি সম্পর্কে। গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক চর্চায় অমিতাভ বচ্চনের কেবিসি ১৭। জুনিয়র্স সপ্তাহে একজন দারুন স্মার্ট শিশুর মুখোমুখি হয়েছিলেন বিগবি। সব নিয়ম জানে সে। বলার দরকার নেই এই বক্তব্য করার পর তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। বাচ্চাটির বাবা মা ঠিক করে মানুষ করে পারেনি বাচ্চাটিকে অনেকেই একথা বলতে থাকেন। এত বড়ো একজন মানুষকে কীভাবে একথা বলতে পারে বাচ্চাটি, তা নিয়ে শুরু হয় জোর চর্চা। অনেকেই বলেন এই গোটা ঘটনা নাকি স্ক্রিপ্টেড। অনেকেই প্রশংসা করেন বিগবির ধৈর্য্যের। এরই পাশাপাশি স্প্রুহা তুষার শিনখেড়ে নামে এক প্রতিযোগী খেলতে আসেন। যার প্রতিভা মুগ্ধ করেছিল বিগবিকে। তিনি প্রশংসাও করেছিলেন। তবে স্প্রুহার মা জানান, মেয়ে অলরাউন্ডার হলেও খাবার খেতে তার অনীহার কথা। তাঁর মেয়ে আস্তে আস্তে খান।স্প্রুহা জানতে চায় আমি যেমন আস্তে আস্তে খাই আপনার খাদ্যাভাস কেমন। অমিতাভ বচ্চন জানান ,তিনি কী খান আর কোন খাবার পছন্দ সত্বেও খেতে পারেন না। ভাত, কেক-পেষ্ট্রি খান না। জিলিপি পছন্দ সত্বেও খেতে পারেন না।তবে মোটামোটি যা পান তাই খান তিনি। তবে অমিতাভ ফিটনেস ধরে রাখতে ভাত খান না। বেশ কিছু আগে একবার অনুষ্কা শর্মা তাকে বলেছিলেন তিনি কাঁঠাল খেতে পছন্দ করেন ,করোলা খেতেও নাকি অনুষ্কার বেশ লাগে । মুখ বিকৃত করে বিগ বি বলেছিলেন কাঁঠাল, কুমড়ো , করোলা অর্থাত ক দিয়ে শুরু হওয়া সব্জি খেতে তার একদম ভালো লাগে না। রুটিন মেনে চলেন নিয়মিত,সেটা না করলে রোজ শ্যুটিং করে এতো এনার্জি নিয়ে কাজ করতে পারতেন না। দিনের শুরুতে তুলসী পাতা দিয়ে শুরু করেন কারণ তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আমলকির রস, খেজুরও খাদ্য তালিকায় যোগ করেন তিনি যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। খাদ্যতালিকা থেকে আমিষ খাবার এবং চিনি বাদ দিয়েছেন বহুদিন।

বিগ বির নানা বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ সবসময়কার । ভারতীয় সিনেমার সবচেয়ে আইকনিক এবং জনপ্রিয় তারকা তিনি।পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি ২০০-র অধিক ফিল্মে অভিনয় করেছেন। ক্যারিয়ারের উত্থান পতনের মতো জীবন-মৃত্যুর লড়াই করেছেন তিনি। শরীর নিয়ে বহু সমস্যারর কথা শোনা যায় বিভিন্ন সময়ে। কেবিসির সিজন ১৩-তে একবার এক তথ্য ফাঁস করেন যা শুনে হতবাক হয়ে যান সকলে। একটি পর্বে অভিনেত্রী আদিতি গুপ্তা বিগ বি-কে অনুরোধ করেন যে, তিনি তার নাড়ি পরীক্ষা করতে চান। সেদিন তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন মনীশ পল এবং দিশা পারমারও। অদিতির অনুরোধে অমিতাভ হাত বাড়িয়ে দেন। নাড়ি পরীক্ষা করতে গিয়ে চমকে ওঠেন অভিনেত্রী। কী করে সম্ভব কোথাও নাড়ি খুঁজে পেলেন না। বিগ বি তখন বলেন, তার নাড়ি নেই। এর পেছনে নাকি একটা ইতিহাস আছে ।১৯৮২ সালে কুলি ফিল্মে আ্যকশন করার সময় দুর্ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়েন বিগ বি,কব্জি কেটে প্রতি আধঘন্টা অন্তর রক্ত বের করতে হতো । এর পর তার নাড়ি বারবার বন্ধ হয়ে যেত।অমিতাভ জানান যে , এখন তার নাড়ি ঘাড়ে এবং তিনি তা স্পর্শ করতে দেবেন না।তাই অমিতাভজির পালস রেট নিতে হলে ঘাড় স্পর্শ করেই নিতে হয়।
শারিরীক সমস্যাকে কাটিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যাওয়া , এবং নিয়মিত ভাবে কাজ করার উদ্যম নিয়ে এগিয়ে চলা বিগবি সকলের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।