আরও দামি আমূল দুধ

লিটার পিছু ২ টাকা পর্যন্ত দুধের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করল দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা আমূল (Amul)। বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মূল্যবৃদ্ধির চাপে নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির মাঝেই এ বার ধাক্কা দুধের বাজারে। লিটার পিছু ২ টাকা পর্যন্ত দুধের দাম বাড়ানোর ঘোষণা করল দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা আমূল (Amul)। বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সঙ্কট এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির আবহে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।

আমুলের তরফে প্রকাশিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ৫০০ মিলিলিটারের আমুল গোল্ডের দাম ৩৪ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৫ টাকা। আমুল তাজা-র দাম ২৮ টাকা থেকে বেড়ে ২৯ টাকা করা হয়েছে। একই ভাবে আমূল গরুর দুধের ৫০০ মিলি প্যাকেটের দাম ২৯ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩০ টাকা। আমূল শক্তি দুধের দামও ৩১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩২ টাকা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে আমুল বাফেলো মিল্ক এবং টি-স্পেশাল দুধের ক্ষেত্রে। ৫০০ মিলির আমূল বাফেলো মিল্কের দাম ৩৭ টাকা থেকে বেড়ে হচ্ছে ৩৯ টাকা। অন্য দিকে, এক লিটারের টি-স্পেশাল দুধের প্যাকেটের দাম ৬৩ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৬৬ টাকা। ফলে সকালবেলার চা থেকে শিশুদের পুষ্টির খরচ— সব ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে মধ্যবিত্তের সংসারে।

দুধের দাম বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমুল জানিয়েছে, গত এক বছরে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে প্যাকেজিং খরচ এবং জ্বালানির মূল্যও। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার প্রভাব পরিবহণ ব্যয়েও পড়েছে। তার জেরেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে সংস্থা।

তবে শুধু উৎপাদন খরচ বৃদ্ধিই নয়, কৃষকদের স্বার্থের কথাও তুলে ধরেছে আমূল। সংস্থার দাবি, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে দুধ সংগ্রহের জন্য উৎপাদকদের যে মূল্য দেওয়া হয়, তা ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি লিটার দুধ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ পয়সা সরাসরি দুধ উৎপাদনকারী কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে সংস্থা।

তবে এই সিদ্ধান্তে শহর ও শহরতলির ক্রেতাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, দুধের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে পারে মিষ্টি, দই, পনির-সহ অন্যান্য দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারেও। ফলে আগামী দিনে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।