মমতাকে ছুরির আঘাত? কালীঘাটে তরুণীর কাণ্ডে শোরগোল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্য ছড়াল কালীঘাটে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় তাঁর কাছে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা করেন এক তরুণী। ওই তরুণীর কাছে ছুরি ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

জানা গিয়েছে, দিল্লির কর্মসূচি শেষ করে আগের দিনই কালীঘাটের বাড়িতে ফিরেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজের বাড়ির কাছেই কালীঘাট মিলন সংঘের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। সেই উপলক্ষে বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন তৃণমূলের বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মী।

অভিযোগ, সেই সময় এক তরুণী নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়ে বাড়ির দরজার কাছে পৌঁছে যান। নেত্রী বাইরে বেরিয়ে আসতেই তাঁর দিকে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শাড়ি ধরে টান দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে। আচমকা এই ঘটনায় প্রথমে উপস্থিত ব্যক্তিরা কিছুটা হতচকিত হয়ে পড়লেও পরে তাঁরা পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাকেত গোখলের অভিযোগ, মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এক মাদকাসক্ত মহিলা ছুরি নিয়ে পৌঁছে তাঁকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস (Z+) ক্যাটেগরির নিরাপত্তা পান।

সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে সাকেত গোখলে দাবি করেন, জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকা এবং তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ঘটনাটির পিছনে বিজেপির কোনও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, পুলিশ আদৌ পদক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তৃণমূল সাংসদ। এমনকী, এই ঘটনার পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কোনও মদত ছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সেখানে তন্নিষ্ঠা সাহা নামে এক মহিলার উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগে তাঁকে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার এবং মাদকাসক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই মহিলা উত্তেজিত ও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সেখানে পৌঁছে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর ছুরি হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই মহিলা নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বলে পরিচয় দেন এবং রাস্তায় তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেন।