আনন্দপুর : ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে দুই আধিকারিক

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে গ্রেফতার দুই আধিকারিক, ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ‘ওয়াও মোমো’ সংস্থার ম্যানেজার ও ডেপুটি ম্যানেজারকে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁদের ছয় দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারী সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতেই আদালত এই সিদ্ধান্ত নেয়, যাতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ ও সম্ভাব্য গাফিলতির দিকগুলি খতিয়ে দেখা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে ধৃতদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃত দুই আধিকারিক হলেন সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন সিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তী। শুক্রবার তাঁদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। আদালতে তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কারখানার অভ্যন্তরীণ অবস্থা এবং ঘটনাদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতেই পুলিশি হেফাজত প্রয়োজন।

অভিযুক্ত সংস্থার পক্ষে আইনজীবী তানিস হক দাবি করেন, আগুন তাদের কারখানা থেকে নয়, পাশের একটি ডেকোরেটর গোডাউন থেকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই গোডাউনেই তাঁদের সংস্থার তিন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে—পঙ্কজ হালদার, বাসুদেব হালদার এবং এক নিরাপত্তারক্ষী। আদালতে তিনি বলেন, “আমাদের কারখানায় দেশলাই পর্যন্ত জ্বালানো হয় না। এখানে শুধুমাত্র শুকনো জিনিস রাখা হয়। অগ্নি নির্বাপণের জন্য ৩৩টি ফায়ার এক্সটিংগুইশার ছিল।”

প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও জানায়, ঘটনার দিন উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আবেদন করা হয়েছে। তাদের দাবি, সংস্থা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছে এবং মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছে। আইনজীবীর অভিযোগ, যারা অভিযোগ দায়ের করেছেন তাদেরই গ্রেফতার করা হয়েছে, অথচ তাদের সংস্থার কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী সামিউল হক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, “সেখানে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকলো কী করে? দায় এড়ানো যায় কী করে?” তিনি জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ভিতরে কী ধরনের সামগ্রী ছিল—সবই তদন্তাধীন। ফরেন্সিক ও ইলেকট্রিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি।

প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানির পর অভিযুক্তদের ৬ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।