নিহতদের মরদেহ প্রথমে মুম্বইয়ে আনা হয়। সেখান থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হায়দরাবাদে পৌঁছে দেওয়া হয়।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ভিয়েতনামে নৌকাডুবির মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের তিন বাসিন্দা। তাঁদের মরদেহ মঙ্গলবার হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছল। সেখানে সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মরদেহগুলি তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গভীর শোকের ছায়া নিহতদের পরিবারে।
মৃতেরা হলেন কড়াপার শ্রীধর, মাচিলিপটনমের জয়শ্রী এবং অনন্তপুর জেলার হিন্দুপুরের রবিতেজা। ভিয়েতনামের ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে ১১ জুলাই পর্যটকবাহী একটি স্পিডবোট উল্টে যাওয়ার ঘটনায় মোট ১৫ জন ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে তিন জন ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা। নিহতদের মরদেহ প্রথমে মুম্বইয়ে আনা হয়। সেখান থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় হায়দরাবাদে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অন্ধ্রপ্রদেশের মন্ত্রী কোন্ডাপল্লি শ্রীনিবাস বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে শোকপ্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে গিয়ে এত মানুষের প্রাণহানি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। রাজ্য সরকার ভিয়েতনাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সরকার সব সময় থাকবে।’’

রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি জানার্ধনম রাজ জানান, জেলা প্রশাসনের মনোনীত আধিকারিকদের হাতে মরদেহগুলি তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত সেগুলি নিহতদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া যায়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরাও প্রশাসনের সহযোগিতা করেছেন। জয়শ্রীর আত্মীয় স্বরূপ বলেন, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা থেকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া— প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশাসন পাশে থেকেছে।

রবিতেজার এক আত্মীয় জানান, দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের আগেই পুলিশ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সরকারই সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং মরদেহ বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রবিতেজা গত দশ বছর ধরে একটি বেসরকারি মোবাইল সংস্থায় কর্মরত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ১১ জুলাই ভিয়েতনামের ফু কুয়ক দ্বীপের কাছে হন মে রুত দ্বীপ থেকে আন থোই বন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া পর্যটকবাহী স্পিডবোটটি উত্তাল সমুদ্রে উল্টে যায়। নৌকায় ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক এবং চার জন ভিয়েতনামের কর্মী ছিলেন। দুর্ঘটনায় ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রাণ হারান ১৫ জন ভারতীয়। মৃতদের মধ্যে ১০ জন তামিলনাড়ুর, তিন জন অন্ধ্রপ্রদেশের এবং দু’জন কেরলের বাসিন্দা। আরও এক জন এখনও ভিয়েতনামের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।