অনির্বাণের ‘ঝাড়াই-বাছাই’ চলছে 

মঞ্চে তিনি গান গেয়েছিলেন ভাই কাগজ আমরা দেখাবই কারণ আমাদের কাছে কাগজ আছে, কে জানত নির্বাচন কমিশন তার কথাকে বেশ সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে এবং তার ডাক পড়বে।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : গানের কথায় তিনি বলেছিলেন, ‘ভাই এসআইআর কী বলছে?’ সহশিল্পী বলেছিলেন, ‘ঝাড়াই বাছাই চলছে।’ আর সেই ঝাড়াই বাছাই পর্বেই ডাক পাচ্ছেন মেদিনীপুরের ছেলে অনির্বাণ। এসআইআর-র শুনানিতে ডাকা হচ্ছে তাঁকে। মঞ্চ থেকে কাগজ দেখানো নিয়ে খুব কনফিডেন্ট অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ডেকে পাঠানো হয়েছে এসআইরের হিয়ারিংয়ের জন্য! বাড়িতে নোটিস গিয়েছে তার। সিনেমার রিল লাইফ এবং বাস্তবের রিয়েল লাইফ মিলেমিশে এক হয়ে যাওয়ার প্রচুর উদাহরণ আমরা দেখেছি কিন্তু মঞ্চের গান আর জীবনের মঞ্চ যে এভাবে মিলেমিশে এক হয়ে যাবে তা কেন জানত! অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে এই অনির্বাণ ভট্টাচার্য বিদ্রুপের ছলে প্রশ্ন তুলেছিলেন SIR আর কাগজের রাজনীতি নিয়ে, আর এবার নাকি তারই ডাক পড়ল এসআইআর শুনানিতে। শিল্পীর জীবনে কখনও কখনও শিল্প নিজেই ভবিষ্যৎ লিখে দেয়—এ ঘটনাও তেমনই এক অদ্ভুত মিল এমন কথাই কিন্তু বলছেন সকলে। কিন্ত কেন এই ডাক? দেখুন অনির্বাণ অভিনেতা হোন পরিচালক হোন মেয়েদের ক্রাশ হোন গায়ক হোন নির্বাচন কমিশনের চোখে তিনি কিন্তু একজন সাধারণ ভোটার যার সঙ্গে আমার আপনার কোন তফাত নেই। এবার সবার মতই অনির্বাণও এনুমারেশন ফর্ম তো ফিল আপ করে সাবমিট করেছেন কিন্তু ২০০২ সালের কোনও যোগসূত্র দিতে পারেননি তিনি। কারণ সেসময়কার ভোটার তালিকায় অনির্বাণের মা-বাবা কিংবা ঠাকুরদা, ঠাকুমা কারও নাম নেই।

যদিও পঁচিশ সালের ভোটার তালিকায় রয়েছে অনির্বাণের মা-বাবার নাম। তবে চলতি বছরেই জুলাই মাসে পিতৃবিয়োগ ঘটেছে অভিনেতা-পরিচালকের। আর সেই প্রেক্ষিতেই সশরীরে হাজির হয়ে কাগজ দেখানোর ডাক পড়েছে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের। মেদিনীপুরের শরৎপল্লিতে জন্ম অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের। এখন মা-বোনকে নিয়ে থাকেন কলকাতার গড়িয়ায়। কিন্তু এখনও তাঁর নাম থেকে গিয়েছে মেদিনীপুর শহরের ভোটার তালিকায়। মেদিনীপুর পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯৯ নম্বর বুথের ভোটার তিনি।তবে শুনানিতে নাম এলেও অনির্বাণ কিন্তু ভীষণ চাপলেস কারণ অনির্বাণের কাছে রয়েছে পাসপোর্ট-সহ একাধিক সরকারি কাগজ। ইতিমধ্যেই বিএলওর সঙ্গে কথাবার্তাও হয়েছে। কমিশন যা চাইবে, সেটাই দেখানো হবে—পরিবারের তরফে এমনই বার্তা। অনির্বাণ নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাই শুনানিতে ডাক এলে যথাযথ নথিপত্র নিয়ে হাজির হওয়াই তাঁর স্বাভাবিক দায়িত্ব। অনির্বাণের জেঠু বিদ্যুৎ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন ২০০২ সালে তাঁর ভাই অর্থাৎ অনির্বাণের বাবা প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্য কেন ভোটার তালিকায় নাম তোলেননি, সে বিষয়ে তাঁর কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। দাদু-ঠাকুমা প্রয়াত হওয়ায় তাঁদের নাম সময়ের সঙ্গে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে—এটুকুই জানা। বিদ্যুৎবাবু আরও বললেন, এলাকার তিনটি বুথে ঘুরেও তিনি ভাইয়ের নাম খুঁজে পাননি। তাঁর কথায়, “সেসময়ে তো এত জটিলতা ছিল না।” তবু আশ্বাস দিলেন, এবারের ভোটার তালিকায় যেন অনির্বাণ ও পরিবারের প্রত্যেকের নাম থাকে, সেই চেষ্টাই চলছে। সব মিলিয়ে কিন্তু সময়টা বেশ খারাপ যাচ্ছে অনির্বাণের।

চলতি বছরে টলিপাড়ায় ফেডারেশনের সঙ্গে বেশ কিছু অভিনেতা তথা পরিচালকের সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাবও যথেষ্ট পড়েছিল বাংলা ইন্ড্রাস্ট্রিতে। আর এই সব কিছুর মধ্যে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে রঘু ডাকাতের পর আর কোনও ছবিতে দেখা যায়নি। তিনি একটা সময় জানিয়েছিলেন তাঁর হাতে কোনও কাজ নেই। কেউ কিছু অফারও করেনি তাঁকে। ঐ যে, ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরেই একের পর এক কাজ বন্ধ হয়ে যায় অভিনেতার। পরিচালনা, অভিনয়— কোনও কিছুই করতে পারছিলেন না। তাই এই ‘হুলিগানইজম’ ব্যান্ড তৈরি করেছেন অনির্বাণ-সহ এই প্রজন্মের একঝাঁক অভিনেতা, গায়ক। অনির্বাণ যুক্ত থাকায় ব্যান্ডের নতুন গানের শুটিং শেষমুহূর্তে বাতিল হয়ে যায়, এমনও শোনা গিয়েছিল সে সময় তবে শোনা যাচ্ছে যে অনির্বাণ ভট্টাচার্য অভিনয়ে ফিরতে চলেছেন! তাঁকে ফেরাচ্ছেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়, প্রযোজক রানা সরকার এবং এসভিএফ। সব ঠিক থাকলে পরিচালকের আগামী ছবি ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’-তে অনির্বাণ নামভূমিকায়। তিনি নাকি বড়পর্দার ‘শরৎচন্দ্র। শুধু হবু শরতচন্দ্রকে শুটিংয়ের আগে ভোটার তালিকায় নাম তোলার হিয়ারিংয়ে যেতে হবে এই আর কি!