পরীক্ষায় উদ্বেগের ৭৫ মিনিট !

পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক চিন্তা বাড়িয়েছে ওএমআর ও সময়। ১ঘন্টা ১৫ মিনিটে কলা বিভাগের বিষয়গুলি ওএমআর শিটে দিতে তেমন সমস্যা না থাকলেও পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক প্রত্যেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অঙ্ক ও অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে। এত কম সময়ে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা ওএমআর শিটে কি করে দেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নই এখন ভাবিয়ে তুলেছে পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক প্রত্যেকেই।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। উচ্চমাধ্যমিকের জোড়া সেমেস্টারের প্রথম পর্বের সেমেস্টার হচ্ছে সেপ্টেম্বর মাসে। ৮ সেপ্টেম্বর ছিল প্রথম ভাষা ও ১০ সেপ্টেম্বর ছিল দ্বিতীয় ভাষার পরীক্ষা। ১ঘন্টা ১৫ মিনিটে দুদিনই পরীক্ষা দেওয়ার পর খুশি পরীক্ষার্থীরা। নেই প্রশ্নপত্র নিয়ে কোনও অভিযোগ। ওএমআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতেও সমস্যা হয়নি। কলা বিভাগের বিষয়গুলি নিয়ে তেমন সমস্যা না থাকলেও পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক প্রত্যেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অঙ্ক ও অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে। এত কম সময়ে ৪০ নম্বরের পরীক্ষা ওএমআর শিটে কি করে দেওয়া সম্ভব? এই প্রশ্নই পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবকদের মনে।

এই প্রথম উচ্চমাধ্যমিক দু’টি সেমেস্টার ভেঙে পরীক্ষা হচ্ছে। প্রথম পর্বের সেমেস্টার সম্পূর্ণ এমসিকিউ। যার উত্তর দিতে হবে ওএমআর পেপারে। এই পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একদিকে ক্যালকুলেটর নিষিদ্ধ আর অন্যদিকে সময় হাতে মাত্র ১ঘন্টা১৫ মিনিট। যা চিন্তায় ফেলেছে সায়েন্স ও কমার্স নিয়ে পড়া পরীক্ষার্থীদের। অঙ্ক বা অ্যাকাউন্টেন্সির মতো বিষয়, যার সমাধান করতে খানিকটা সময় লাগে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই ১ঘণ্টা ১৫মিনিট যথেষ্ট নয় বলে মত তাদের। পরীক্ষার্থী দেবার্ঘ্য দাসের বক্তব্য, “সায়েন্সের বিষয়গুলির জন্য বিশেষ করে ফিজিক্স আর অঙ্কের জন্য ১ঘন্টা ১৫ মিনিট সময়টা ঠিক নয়। তার কারণ অঙ্ক বা ফিজিক্সে ক্যালকুলেশনের বিষয় থাকে। তাই সময়ে সম্পন্ন করাটা খুব সমস্যার। আরও ১৫ মিনিট বেশি দিলে আমাদের সুবিধা হত।”
পাশাপাশি জয়া পাল নামে এক অভিভাবকের বক্তব্য, “১ঘন্টা ১৫ মিনিট সময়টি যথেষ্ট নয়। একাদশ শ্রেণিতেও এই সময়ে অঙ্কের সব উত্তর সম্পন্ন করতে পারেনি বহু পরীক্ষার্থী। দ্বাদশের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কি হবে তা নিয়ে বেশ চিন্তায় আছি।”

পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা চিন্তায় থাকলেও শিক্ষকদের একাংশের মত, পরীক্ষার্থীরা যদি ঠিক মতো পড়াশোনা করে থাকে, তা হলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই ৭৫ মিনিট বা ১ঘন্টা ১৫ মিনিটের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের বক্তব্য, এ বছর আর কোনও পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো যাবে না। এতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। পরের বছর থেকে ভাবনা চিন্তা করে দেখা হবে কি করা যায়।

চলতি বছর মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৬লক্ষ ৬০ হাজার। যার মধ্যে ছাত্র ৪৩.৯৭ শতাংশ , ছাত্রী ৫৬.০৩ শতাংশ।ছাত্রদের থেকে ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ৭৯,৫৮২ বেশি। গতবছর পরীক্ষার্থীর ছিল ৫ লক্ষ ৯০হাজার। চলতি বছর ২১০৬ টি কেন্দ্রে পরীক্ষা হচ্ছে । এবার ১২২ টি কেন্দ্রকে স্পর্শকাতর কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়েছে। গতবছর এই সংখ্যাটি ছিল ১৩৬ টি।এবার প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ২০:১ অনুপাতে নূন্যতম দুই জন ইনভিজিলেটর নিরীক্ষণের দায়িত্বে থাকছেন।
প্রত্যেক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির মূলগেটে এবং ভেন্যু সুপারভাইজরের কক্ষে সিসিটিভি দিয়ে নজরদারী রয়েছে। হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে ঢোকার মুখে পরীক্ষার্থীদের তল্লাশি করা হচ্ছে।