বলপ্রয়োগে লাভ নেই, হুঁশিয়ারি ইরানের

“কোনওরকম জোরজবরদস্তির চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থই হবে।”- হুঁশিয়ারি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মার্কিন চাপ ও সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে কড়া বার্তা দিল ইরান। “বলপ্রয়োগ করে ইরানকে নত করা যাবে না”— স্পষ্ট জানালেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)। তাঁর দাবি, কোনওরকম জোরজবরদস্তির চেষ্টা করলে শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থই হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, তেহরান যুদ্ধ চায় না, বরং কূটনৈতিক আলোচনার পথেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে আগ্রহী।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংবাদমাধ্যম ইসলামিক স্টুডেন্ট নিউজ এজেন্সি (Islamic Students News Agency) বা আইএসএনএ -কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমরা গঠনমূলক সংলাপে বিশ্বাসী। কিন্তু আমাদের আত্মসমর্পণ করানো যাবে না। কোনও শক্তি প্রয়োগের চেষ্টা ব্যর্থ হবে, ইরানের মানুষ তা মেনে নেবে না।” তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তুঙ্গে এবং ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলিকে লক্ষ্য করে একতরফা অবরোধ আরোপ করেছে বলে খবর। এই পদক্ষেপকে ঘিরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। মার্কিন সেনার দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই তারা ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছে।

মার্কিন সেনার পশ্চিম এশিয়া শাখা United States Central Command (সেন্টকম)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সমস্ত সমুদ্রপথে বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার (Brad Cooper) দাবি করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে সামুদ্রিক আধিপত্য বজায় রেখে ইরানের বন্দরগুলির উপর পূর্ণ অবরোধ কার্যকর করা হয়েছে। ইরানের অর্থনীতির প্রায় ৯০ শতাংশই সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল।”

এই অবরোধে ১০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা, একাধিক যুদ্ধজাহাজ এবং বহু যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে (Strait of Hormuz) হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে।

এদিকে, মার্কিন ও ইজরায়েলি পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তুলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই হামলা বা অবরোধ কতটা বৈধ। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক হামলায় বেসামরিক পরিকাঠামো— স্কুল, হাসপাতাল-সহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা মানবিক নীতির পরিপন্থী।

যদিও উত্তেজনার আবহে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে যায়নি। ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও, ফের আলোচনায় বসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তবে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিয়েছেন, শান্তির পথেই এগোতে চাইলেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও আপস করবে না তেহরান।