ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা দাবি রাহুল গান্ধীর

ছাত্রদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলছেন শিক্ষামন্ত্রী! ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা দাবি রাহুলের

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। ছাত্রদের অপমান করার অভিযোগ তুলে রাহুল বলেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পদত্যাগ করতে হবে। সমাজমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে রাহুলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষমতার অহঙ্কারে এতটাই অন্ধ হয়ে পড়েছে যে, নিজেদের অধিকার, স্বচ্ছ পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার দাবিতে সরব হওয়া ছাত্রছাত্রীদেরও ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে দেগে দিচ্ছে।

রাহুল লিখেছেন, ‘‘ক্ষমতার অহঙ্কারে ডুবে থাকা মোদী সরকার এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে শিক্ষামন্ত্রী ছাত্রদের— যারা কেবল নিজেদের অধিকার, নিরপেক্ষ পরীক্ষা এবং সুরক্ষিত ভবিষ্যতের দাবি তুলছে— ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।’’

শুধু তা-ই নয়, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক ব্যর্থতার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার জেরে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। রাহুলের কথায়, ‘‘যাঁর ব্যর্থতার জন্য এত প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যাঁর আমলে বহু পড়ুয়ার জীবন বিপন্ন হয়েছে, যিনি লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছেন, তিনিই আজ প্রতিবাদী ছাত্রদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলছেন।’’

কংগ্রেস নেতার দাবি, সরকার বরাবরই ভিন্নমতকে দমনের চেষ্টা করেছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘চাষিদের ‘পেশাদার আন্দোলনকারী’ বলা হয়েছে, প্রশ্ন তোলা মানুষদের ‘দেশবিরোধী’ বলা হয়েছে, আর এখন যুবসমাজকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলা হচ্ছে। সরকারকে প্রশ্ন করলেই তাকে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হচ্ছে। এটাই এদের রাজনীতি।’’

ধর্মেন্দ্র প্রধানের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘‘দেশের কোটি কোটি যুবকের কাছে অবিলম্বে ক্ষমা চান এবং নিজের ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করুন।’’

এর পাশাপাশি দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থাকেও নিশানা করেছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষাব্যবস্থা এখন কার্যত ‘তোলাবাজির কারবারে’ পরিণত হয়েছে। কোটা সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী যাতে সুলভে মানসম্মত শিক্ষা এবং স্বচ্ছ পরীক্ষার সুযোগ পায়, সেই দাবিতে আমি লড়াই চালিয়ে যাব।’’

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া বিক্ষোভকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ‘অশান্তি সৃষ্টিকারী শক্তির বি-টিম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ‘‘গণতন্ত্রে প্রত্যাখ্যাত কিছু শক্তি ছদ্মবেশে এসে ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে।’’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার পুনরায় পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক এখনও অব্যাহত।