বুধবার সন্ধ্যায় ভাঙরের কাশীপুরে এক সভায় হাকিমুলের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন নওসাদ সিদ্দিকি।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভাঙড়ের রাজনীতিতে আরাবুল ইসলাম এবং তার পরিবারকে ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বিশাল বড় পরিবর্তন। সাধারণত এই ধরণের বড় মাপের দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।
অনেক আগেই তৃণমূল ছেড়ে আইএসএফে যোগ দিয়েছিলেন ভাঙড়ের নেতা আরাবুল ইসলাম। তিনি ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে আইএসএফের প্রার্থী হয়েছেন। এবার তাঁর পুত্র হাকিমুল ইসলামও আইএসএফে যোগ দিলেন। হাকিমুল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সদস্য ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় ভাঙরের কাশীপুরে এক সভায় হাকিমুলের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন নওসাদ সিদ্দিকি। হাকিমুল বলেন, দল থেকে যাকে ভাঙড়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁকে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।
আরাবুল ইসলাম ভাঙড়ের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী নাম। তিনি যদি ক্যানিং পূর্ব থেকে আইএসএফ (ISF)-এর টিকিটে দাঁড়ান, তবে সেই অঞ্চলের তৃণমূলের শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ভাঙন ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
পিতা আরাবুল ইসলামের পর পুত্র হাকিবুল ইসলামেরও দলবদল এটাই ইঙ্গিত করে যে, ভাঙড় এবং সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা সাংগঠনিক কাঠামোয় ফাটল ধরছে।
ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্ব—উভয় কেন্দ্রেই সংখ্যালঘু ভোট এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের রাজনীতি বড় ভূমিকা পালন করে। আইএসএফ-এর মত দলের শক্তিবৃদ্ধি এই অঞ্চলের নির্বাচনী লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
দলবদলের এই ঘটনা ওই এলাকার সাধারণ ভোটারদের মনে এবং আসন্ন নির্বাচনে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।