“যাঁদের জন্য আমরা দলনেত্রীর কাছে ঘেঁষতে পারতাম না, আজ তাঁরা কেউ নেই।”
মাম্পি রায়, সাংবাদিক : ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের ছবি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। বুধবার কলকাতা পুরসভার বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কসবার তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। একই দিনে অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন আর এক কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের প্রাক্তন মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী। ইস্তফার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁদের ক্ষোভ উগরে দেওয়া ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।

দু’জনেই সরাসরি নাম না করলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশানা করেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুশান্ত ও অরূপ বলেন, “হার স্বীকার তো করতেই হবে।” তাঁদের অভিযোগ, ভোটে পরাজয়ের পর গত ২৪-২৫ দিনে কোনও মন্ত্রীকে এলাকায় দেখা যায়নি। “যাঁরা জেড প্লাস, ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরতেন, তাঁরা আজ রাস্তায় নেই,”— মন্তব্য করেন তাঁরা।
সুশান্তদের আরও দাবি, দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার কারণে সাধারণ কাউন্সিলররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও পৌঁছতে পারতেন না। তাঁদের কথায়, “যাঁদের জন্য আমরা দলনেত্রীর কাছে ঘেঁষতে পারতাম না, আজ তাঁরা কেউ নেই।” একই সঙ্গে তাঁরা বিজেপিকেও ধন্যবাদ জানান। অভিযোগ, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বহু কর্মী-সমর্থক ঘরছাড়া হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের বাড়ি ফেরাতে বিজেপি সাহায্য করেছে। সুশান্ত বলেন, “জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব ঘরছাড়াদের ফিরিয়ে আনা। শেষ মানুষটি ঘরে না ফেরা পর্যন্ত কাউন্সিলর পদে থাকব।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে, তবে কি অরূপ-সুশান্তদের পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি? যদিও এ বিষয়ে তাঁরা সরাসরি কিছু বলেননি। তবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
বিধানসভা ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ বাড়ছে। একের পর এক নেতা প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন। সম্প্রতি দলের সমস্ত পদ ছেড়ে দিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এর আগে বিভিন্ন জেলাতেও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে বহু স্থানীয় নেতৃত্বকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতা হারানোর পর সংগঠনের ভিত যে দ্রুত আলগা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।