২০ আগষ্ট ছিল আন্তর্জাতিক মশা দিবস। মশার
কামড় আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে তা আরো একবার মনে করবার দরকার এই বিশ্ব মশা দিবসে।

মৌসুমী সাহা, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ২০ অগাস্টে ২০২৫, আমরা বিশ্ব মশা দিবস পালন করি। মশার কামড় আমাদের স্বাস্থ্যের উপর আসলে কতটা প্রভাব ফেলেই তা নিয়ে সত্যি ভাবনার সময় এসেছে। অনেকের কাছে মশার কামড় একটা ছোটখাটো উপদ্রব মনে হতেই পারে। ছোট্ট একটা লাল দাগ কয়েকদিন ধরে চুলকায় তারপরে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে বাস্তব ছবিটা কিন্তু খুব জটিল। গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা ডেকে আনতে পারে এই মশার কামড়। মশা কেবল বিরক্তিকর পোকামাকড় নয় তারা সবচেয়ে বিপদজ্জনক, সবচেয়ে মারাত্মক দংশক পতঙ্গ হিসেবে পরিচিত।

মশার কামড় তাৎক্ষণিক অস্বস্তি বা বিরক্তিকর হলেও অনেক বেশি উদ্বেগ জনক। নানান রকম রোগের কারণ হতে পারে এই মশা,যেমন ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জাপানি এন কে ফেলাইটিস এর মত রোগগুলি। প্রাথমিক পর্যায়ে এর গুরুত্ব উপেক্ষা করলে সমস্যা বাড়ে। যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে এই মশার কামড়ে। তবে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ঝুঁকি বেশি থাকে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু তাদের ক্রমবর্ধমান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারনে সমস্যা বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর মত রোগে জীবন সংশয় হতে পারে। বয়স্ক, প্রাপ্ত বয়স্কদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে হ্রাস পায় এবং দুর্বলতা বৃদ্ধি পায়।গর্ভবতী মহিলাদের ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। ভ্রুণের বিকাশ মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল তাদের এই মশার কামড়ের ফলে ঝুঁকির সম্ভাবনা বেশি।

মশা কামড়ের ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশ কিছু পদ্ধতির কথা মাথায় রাখা প্রয়োজন। মশা জমে থাকা জলে বেড়ে ওঠে তাই কোন জায়গায় জল জমতে দেওয়া উচিত নয়। এমনকি জল ভর্তি বোতলের ঢাকনার মতো ছোট জিনিসও মশার প্রজননের জন্য সক্ষম। জানালার পর্দা লাগান, বিছানায় মশারী ব্যবহার করুন। মশা প্রতিরোধে ঢাকা পোশাক পড়ুন বিশেষ করে সন্ধ্যা বেলা এবং ভোরের দিকে যখন মশা সবথেকে বেশি সক্রিয় থাকা। রাসায়নিক এবং প্রাকৃতিক উভয় ধরনের মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করুন। ঘরের ভেতরে কয়েল এবং মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করুন। সানিটাইজেশন করুন আশেপাশে। জনসচেতনটা তৈরি করা প্রয়োজন যা মশার সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সবসময় মনে রাখতে হবে যে মশার কামড়ে বিপদ কেবল চুলকানি নয়। মশার কামড় থেকে নিজেদের রক্ষা করা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক।