আপনি কি ভারতের নাগরিক ? প্রমাণ দিন

কেউ যদি প্রশ্ন করেন আপনি কি ভারতের নাগরিক, তার প্রমাণ দিন। তাহলে প্রথমেই আপনি কী কী নথি দেখাবেন তাঁকে ?

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : বঙ্গে এসআইআর। ভোটাধিকার হারানোর ভয় ভুগছেন অনেকে। এনআরসি নিয়ে কম চাউর হয়নি তো। মানে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন।কেউ যদি প্রশ্ন করেন আপনি কি ভারতের নাগরিক, তার প্রমাণ দিন। তাহলে প্রথমেই আপনি কী কী নথি দেখাবেন তাঁকে ? প্রথমেই নিশ্চয়ই আধার কার্ড নিয়ে তাঁকে দেখাবেন বা প্যান কার্ড। তাতেও সেই ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই পাসপোর্ট দেখাবেন। ধরুন সেই কটি নথি দেখে তিনি বললেন, এসব নথিতে প্রমাণ হচ্ছে না ভারতের নাগরিক হিসাবে। আপনার কাছে সমস্ত সরকারি নথি থাকা সত্বেও আপনি ভারতীয় নাগরিক হিসাবে গন্য হচ্ছেন না। সেই রকম পরিস্থিতি আপনার সামনে আসলে, কী করবেন?  যতই হোক নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন যে।

এর জন্য প্রথমেই যে দিকে আলোকপাত করতে হবে, তা হল নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ ও নাগরিকত্ব নিয়ম ২০০৩।  হোম মিনিস্টারের কী কী নির্দেশ রয়েছে। সেই দিকটাও একটু দেখে নেওয়া ভালো। এছাড়া এটাও দেখে নেওয়া দরকার, যে এমন কোন নথি রয়েছে, যা আপনাকে ১০০ শতাংশ প্রমাণ করবে, যে আপনি ভারতীয় নাগরিক। প্রথমেই যে ভুলটা ভাঙা দরকার, তা হল নাগরিকত্ব বা সিটিজেনশিপ ও আইডেন্টিটি নথির মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। আধার কার্ড আপনার বাসস্থানের প্রমাণ দেয়। ভোটার কার্ড প্রমাণ করে যে আপনি দেশের নির্বাচনগুলিতে ভোট দিতে পারেন। কিন্তু এগুলি ১০০ শতাংশ কখনই বলতে পারে না, যে আপনি ভারতেরই নাগরিক। এমনকি পাসপোর্টও ১০০ শতাংশ নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয় না। আধার , ভোটার, পাসপোর্ট যখন নাগরিকত্বর প্রমাণ দিতে পারছে । তাহলে এমন কোন নথি রয়েছে, যা নাগরিকত্বর প্রমাণ দিতে পারে। আপনার জন্ম ভারতে । তাতেও ১০০ শতাংশ  প্রমাণ হয় না যে  আপনি ভারতীয়। সেক্ষেত্রে দেখতে হবে জন্মের তারিখ

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : বঙ্গে এসআইআর। ভোটাধিকার হারানোর ভয় ভুগছেন অনেকে। এনআরসি নিয়ে কম চাউর হয়নি তো। মানে নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন।কেউ যদি প্রশ্ন করেন আপনি কি ভারতের নাগরিক, তার প্রমাণ দিন। তাহলে প্রথমেই আপনি কী কী নথি দেখাবেন তাঁকে ? প্রথমেই নিশ্চয়ই আধার কার্ড নিয়ে তাঁকে দেখাবেন বা প্যান কার্ড। তাতেও সেই ব্যক্তি সন্তুষ্ট না হলে পরবর্তীতে নিশ্চয়ই পাসপোর্ট দেখাবেন। ধরুন সেই কটি নথি দেখে তিনি বললেন, এসব নথিতে প্রমাণ হচ্ছে না ভারতের নাগরিক হিসাবে। আপনার কাছে সমস্ত সরকারি নথি থাকা সত্বেও আপনি ভারতীয় নাগরিক হিসাবে গন্য হচ্ছেন না। সেই রকম পরিস্থিতি আপনার সামনে আসলে, কী করবেন?  যতই হোক নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন যে।

এর জন্য প্রথমেই যে দিকে আলোকপাত করতে হবে, তা হল নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫ ও নাগরিকত্ব নিয়ম ২০০৩।  হোম মিনিস্টারের কী কী নির্দেশ রয়েছে। সেই দিকটাও একটু দেখে নেওয়া ভালো। এছাড়া এটাও দেখে নেওয়া দরকার, যে এমন কোন নথি রয়েছে, যা আপনাকে ১০০ শতাংশ প্রমাণ করবে, যে আপনি ভারতীয় নাগরিক। প্রথমেই যে ভুলটা ভাঙা দরকার, তা হল নাগরিকত্ব বা সিটিজেনশিপ ও আইডেন্টিটি নথির মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। আধার কার্ড আপনার বাসস্থানের প্রমাণ দেয়। ভোটার কার্ড প্রমাণ করে যে আপনি দেশের নির্বাচনগুলিতে ভোট দিতে পারেন। কিন্তু এগুলি ১০০ শতাংশ কখনই বলতে পারে না, যে আপনি ভারতেরই নাগরিক। এমনকি পাসপোর্টও ১০০ শতাংশ নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয় না। আধার , ভোটার, পাসপোর্ট যখন নাগরিকত্বর প্রমাণ দিতে পারছে । তাহলে এমন কোন নথি রয়েছে, যা নাগরিকত্বর প্রমাণ দিতে পারে। আপনার জন্ম ভারতে । তাতেও ১০০ শতাংশ  প্রমাণ হয় না যে  আপনি ভারতীয়। সেক্ষেত্রে দেখতে হবে জন্মের তারিখ

রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব কীভাবে

সিটিজেনশিপ অ্যাক্টের ধারা ৫ -র মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন মিনিস্ট্রি অফ হোম অ্যাফেয়ার্স দ্বারা অনুমোদন মিলতে হবে, অনুমোদন মিলে গেলে তারপরই নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন সিটিজেনশিপ ২০০৩ জারি করা হয় মিনিস্টি অফ হোম অ্যাফেয়ার্সের তরফে।  ইন্ডিয়ান সিটিজেনশিপের যে সার্টিফিকেট। ওটাই হল সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য। এবার ধরুন কোনও বিদেশি দীর্ঘদিন ধরে ভারতে রয়েছেন। তারাও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে মানতে হবে কিছু নিয়ম। সেক্ষেত্রে তিনি সিটিজেনশিপ ১৯৫৫ আইনের ৬ নং ধারার মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। এই সার্টিফিকেট পেয়ে গেলে. তা নাগরিকত্বের অন্যতম নথি। এই প্রমাণপত্র শরণার্থীদের দেওয়া হয়, বা নিবাসীরাও পেয়ে থাকেন। বা ধরুন এমন কেউও পেতে পারেন যিনি এর আগে রাষ্ট্র ছেড়ে দিয়েছেন।

নাগরিকত্ব ২০০৩-র নিয়ম সম্বন্ধে একটু আলোকপাত করা যাক। এই যে এনআরসি নিয়ে এত লম্ফযম্ফ। তা এই ২০০৩-র নিয়ম থেকেই এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০১৯-র মধ্যে আসামে এনআরসি হয় এনআরসি-তে প্রয়োজনীয় নথি বার্থ সার্টিফিকেট, ১৯৭১ সালের আগে জমির মালিকানার প্রমাণ, জমির কোনও রেকর্ড, ভোটার কার্ড, শিক্ষাক্ষেত্রের সার্টিফিকেট

এবার আসা যাক কিছু পরিচিত নথি সম্বন্ধে, জানা যাক সেগুলি নাগরিকত্বের প্রমাণ দেয় কি না। প্রথমেই আসা যাক আধার কার্ড সম্বন্ধে । আধার কার্ড কোনওরকম ভাবেই নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। শুধুমাত্র আইডেনটিটি বা শণাক্তকরণ করার কাজে প্রয়োজন হয়। ভোটার কার্ড প্রমাণ করে আপনি ভারতে রয়েছেন, এবং ভারতের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। ভোটার কার্ডও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। প্যান কার্ডও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। পাসপোর্ট কিছুটা নাগরিকত্বের প্রমাণ দিলেও তা ১০০ শতাংশ মোটেও নয়।  আইনের দিক থেকে দেখলে সবথেকে যেটি নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য  গুরুত্বপূর্ণ, তা হল মিনিস্ট্রি অফ হোম অ্যাফেয়ার্সের দেওয়া সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট। এর পাশাপাশি বার্থ সার্টিফিকেট। যেটিও প্রমাণ করে আপনার নাগরিকত্ব।

এবার ব্যপার হল কীভাবে এই নাগরিকত্ব ২০০৩-র সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেটটা পাবেন বা অ্যাপ্লাই করতে পারবেন। কীভাবে আবেদন :  ১৩ নং ফর্ম ফিল আপ করে, গৃহমন্ত্রালয়ে আবেদন করতে হবে, সঙ্গে দিতে হবে কিছু নথি দিতে হবে বার্থ সার্টিফিকেট, বাবা- মার প্রমাণপত্র যোগ করতে হবে, বাসস্থানের প্রমাণপত্র যোগ করতে হবে গৃহমন্ত্রালয় থেকে আপনার আবেদন অ্যাপ্রুভ হয়ে গেলে , পেয়ে যাবেন সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট। আপনার নাগরিকত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন বা মামলা যদি আদালতে চলে। তাহলে সেক্ষেত্রে আপনি আদালতে জমা দিতে পারেন গৃহমন্ত্রালয়ের সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট