বিশ্বজিৎ পাল, সাংবাদিক : আপনি চাকরিজীবী? অবসরপ্রাপ্ত? ব্যাঙ্কে মোটা টাকা রেখেছেন? সুদে সংসার চলছে? তাহলে আপনার জন্যই এই প্রতিবেদন।

জীবনের শেষ বেলায় এসে সারা জীবনের সঞ্চয় আপনি ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রেখেছেন, সেই মোটা অংকের টাকায় আপনি যা সুদ পান তাতেই আপনার সংসার চলছে। হঠাৎ করে একদিন দেখলেন ব্যাংকের একের পর এক এসএমএস আপনার ফোনে ঢুকছে। এই এসএমএস গুলো সাধারণত মিনিট দুয়েকের ব্যবধানে পর পর আসতে থাকবে, আপনার সেলফোনের এসএমএস এর ইনবক্সে খুলে দেখলেন আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ২ মিনিটের মধ্যে চার-পাঁচবার ট্রানজ্য়াকশন হয়ে গেছে লক্ষাধিক টাকা। আপনি কোন অপেক্ষা না করে সাথে সাথে আপনার অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দিলেন। পরবর্তী সময়ে আপনি ব্যাংকের দ্বারস্থ ও সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে অভিযোগ করলেন। পুলিশ আপনাকে আশ্বাস দেবে যে টাকাটা আপনাকে উদ্ধার করে দেবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তার সম্ভব হয় না। কেন সম্ভব হয় না তা বিস্তারিত জানাচ্ছি।

অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উধাও হয়ে গেলে আপনার কী করবেন ???
১) ব্যাংককে দ্রুত জানান: আপনার ব্যাঙ্কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফোন করে বা শাখায় গিয়ে জানান যে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অননুমোদিতভাবে টাকা তোলা হয়েছে।
২) অ্যাকাউন্ট ও কার্ড ব্লক করুন: আপনার ব্যাঙ্ক আপনার অ্যাকাউন্ট এবং কার্ডগুলো ব্লক করে দেবে যাতে আর কোনও লেনদেন না হতে পারে। এরপর ব্যাঙ্কের পাস বই আপডেট করে সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ জানাবেন।
এবার আসি কোন কোন ভুলের জন্য আপনার টাকা খোয়া গিয়েছে ? প্রতারকরা সব জায়গায় জাল বিছিয়ে রেখেছে কখনও আপনি এটিএম থেকে টাকা তুলতে গেলে সেখানেই আপনার এটিএম কার্ডটি ক্লোন হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় আপনি অনলাইন স্ক্যানার এর মাধ্যমে কাউকে টাকা প্রদান করছেন সেখানেও জালিয়াতির খপ্পরে পড়তে পারেন আপনি। মোবাইলে অনেক সময় আননোন নাম্বার থেকে বহু লিংক আসে। আপনি না জেনে বুঝে সেখানে ক্লিক করলেন আপনার সমস্ত তথ্য হ্যাকারদের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। এছাড়াও অনেক সময় ফ্রড কল আসে সেখানে আপনাকে বলা হয় আপনার ইলেকট্রিক বিলটি পেমেন্ট করা হয়নি আপনার লাইন কেটে দেওয়া হবে। আপনি কোন অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে পেমেন্ট করেছেন তার ডিটেলস আপনার কাছে চাইতে পারে ভুল করেও যদি দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও আবার ব্যাঙ্কের থেকেও ফোন করে বলা হয় আপনার এটিএম কার্ডটি এক্সপায়ার করে গেছে, আপনি নতুন এটিএম এর জন্য অ্যাপ্লাই করুন। নানাভাবে ব্যাঙ্কের নাম করে এই ফ্রড কলগুলো আসে। অনেকসময় আবার আধার কার্ডের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হতে পারে তাই কখনও কোথাও আধার কার্ড জমা দিলে সেখানে কোনভাবেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করবেন না।
এবার টাকা ফেরত এর বিষয়ে আসি, অনেক সময় আপনার খোয়া যাওয়া টাকা আপনি ফেরত পেতে পারেন। যদি সাথে সাথে অভিযোগ করা যায় সমস্ত পদ্ধতি মেনে আপনার কোথাও ভুল না থাকলে সে ক্ষেত্রে আপনি টাকা ফেরত পেতেই পারেন।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরো টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। যারা এই ধরনের স্ক্যামের সঙ্গে যুক্ত তারা বেশ কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করে।

প্রথমে তারা কয়েকটি অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলো কাদের হয়? যারা রাজমিস্ত্রি, লেবার, যারা দিন আনে দিন খায়, একেবারে গরিব মানুষ যারা মাসে ৪০০-৫০০ টাকার বিনিময়ে তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটা ভাড়া দেয়। যখনই এধরনের অ্যাকাউন্টে প্রতারকের টাকা ঢোকে সাথে সাথে প্রতারকেরা এই টাকাটা বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে ফেলে। পরবর্তীতে সেই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়। পুলিশের কাছে যখন অভিযোগ জমা পড়ে তখন পুলিশ যে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়েছিল ব্যাঙ্কের সাথে কথা বলে অ্যাকাউন্টটা ফ্রিজ করে দেয়। ততক্ষণে দেখা যায় সেই অ্যাকাউন্টে সামান্য কিছু অর্থ পড়ে রয়েছে। পুলিশ তখন অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে গ্রেফতার করে। কিন্তু মূল অভিযুক্তকে কোনওভাবে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় না। তাই সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে একটাই কথা বলার, সামান্য অর্থের প্রলোভনে আপনারা কখনোই আপনার অ্যাকাউন্ট অন্যকে হস্তান্তর করবেন না। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিভিন্নভাবে নানা জিনিস ক্লোন করা হয়। কার্ড থেকে মূল্যবান সামগ্রী কেনা হয়, এখানে আপনাকে সাবধান হতে হবে। এটিএমে গিয়ে টাকা তোলার সময়ে কিংবা আপনি কার্ড সোয়াইপ করতে গিয়ে সতর্ক থাকতে হবে।