রুপোর দাম ৫ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে সোনার দাম দেড় শতাংশ কমেছে।
শুভঙ্কর চট্টোপাধ্যায়, সাংবাদিক : ইরান, ইজারায়েল-আমেরিকা যুদ্ধ আবহে সোনা,রুপো কিনবেন ভাবছেন। বুঝে উঠতে পারছেন না এটা এই দুই মূল্যবান ধাতু কেনার সঠিক সময় কিনা? দাম বাড়ল, না কমল তা নিয়ে চিন্তা করছেন ?

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ, আমেরিকার হঠাৎ হঠাৎ নীতি প্রণয়নে জ্বালানির পাশাপাশি প্রভাব পড়েছে সোনা, রুপোর দামে। গতবছরের তুলনায় সোনা,রুপোর দাম বাড়লেও শেয়ার বাজারের পরিভাষায় প্রায় ৭ শতাংশ মূল্যহ্রাস হয়েছে হলুদ ধাতুর।
ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপের মধ্যে সোনা ও রুপোর দামও কমেছে। সাধারণত, যখন বাজার পড়ে, সোনার দাম বাড়ে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য এবং বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা পুরো সমীকরণটি বদলে দিয়েছে। সোনা এবং রুপো উভয়ই সস্তা হয়েছে। রুপোর দাম ৫ শতাংশ কমেছে, অন্যদিকে সোনার দাম দেড় শতাংশ কমেছে। রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১১ হাজার টাকা কমে ২ লাখ ৩৩ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। এদিকে, সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১ লক্ষ ৫১হাজার ৪৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ২৪ ক্যারেট এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপোর দাম কমে প্রায় ৩ শতাংশ কমে ৭২ দশমিক নয় পাঁচ ডলারে নেমেছে। বৃহস্পতিবার সোনার দাম এক শতাংশ বেশি বেড়ে ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরাক নিয়ে বক্তব্যের পর তা কমে যায়। অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও চাপের মুখে পড়ে। প্ল্যাটিনামের দাম ১৯২৮ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১৪৫১ ডলারে নেমে আসে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগ করার আগে আপনার উপদেষ্টা পরামর্শ নেওয়া আবশ্যিক।
আসলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম পড়েছে ২ দশমিক এক পাঁচ শতাংশ। পাশাপাশি রুপোর দাম ৫ শতাংশ কমেছে। ডলার ইনডেক্স বেড়ে চলাই এর বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যুদ্ধের কারণে ডলারের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বলে, ডলারের দাম পড়লে সোনার দাম বাড়ে, অন্যদিকে ডলারের দাম বাড়লে সোনার দাম কমে। ফলে যুদ্ধের অস্থির বাজারে মধ্যবিত্তের মুখে হাসি। সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মনেও আশার আলো জাগিয়েছে এই পতন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যারা সোনায় বিনিয়োগ করেছেন তাদের জন্য এই পতন যথেষ্ট উদ্বেগের।
শুক্রবার ২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম সোনার দাম ছিল ১৪ হাজার ৩৫ হাজার। অন্যদিকে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১৪৭৭০ টাকা। প্রতি গ্রাম রুপোর দাম ২৬২ টাকা। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবারও সোনা রুপোর দামে ওঠা পড়া লক্ষ্য করা গিয়েছে।
সোনা ও রুপো সস্তা হলেও, অপরিশোধিত তেলের দাম উল্টো পথে হাঁটঠছ। তা প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০৬ দশমিক চার সাত ডলারে পৌঁছেছে। যা আবার বিশ্বের অর্থনীতিতে নতুন চাপ করতে পারে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সোনা বা রুপোয় বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই ব্যক্তিগত আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। কারণ বাজারের এই ওঠানামা স্বল্পমেয়াদিও হতে পারে।

২০২০ সালের মার্চ মাসে নিফটিতে প্রায় ২৩ শতাংশ পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। চলতি বছরের মার্চ মাসে নিফটির ১১ শতাংশ পতন হয়েছে। এই অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার ক্রেতার সংখ্যা হু হু করে নিচে নেমে গিয়েছে, উল্টোদিকে বিক্রেতারা সোনা বিক্রি করতে পারছেন না। আসলে সোনার বদলে ডলারে ইনভেস্ট করাই দুই মূল্যবান ধাতুর পতনের মূলে রয়েছে বলে মত বাজারদর বিশেষজ্ঞদের।
অপরিশোধিত জ্বালানি কেনার মূল মাধ্যম হল ডলার। আগে ব্যারেল প্রতি পেট্রলজাত জ্বালানি কিনতে যেখানে অনেক কম ডলার দিতে হচ্ছিল, বর্তমানে ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে বহুগুণ বেশি ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে তরল সোনা কেনার জন্য।
ডলার এবং সোনা দুটোকেই গ্লোবাল কারেন্সি হিসাবে ধরা হয়। বিনিয়োগকারীরা সময় সুযোগ বুঝে কখনও ডলার কখনও সোনায় ইনভেস্ট করে থাকেন। আমেরিকায় যখনই ডলারের পতন হয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সোনা কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ ডলারের পরিবর্ত হিসাবে একমাত্র সোনাকেই গ্লোবাল কারেন্সি বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা হিসাবে ধরা হয়। জ্বালানি তরলে ইনভেস্টমেন্ট সেই অর্থে হয়না, এর অন্যতম মূল কারণ পরিবহণ খরচ।
তবে যুদ্ধের মধ্যে মধ্যবিত্তদের জন্য একটাই স্বস্তির খবর। ডলারের দাম বাড়লে সোনার দাম কমবে। তাই অপেক্ষা করুন, সঠিক সময়ে কিনে ফেলুন সোনা, রুপোর মত মূল্যবান ধাতু।