ইউনুসকে আল্টিমেটাম সেনাপ্রধানের!

ইউনুসকে আল্টিমেটাম বা চরম বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। কিন্তু কেন? হঠাৎ ইউনুসকে ডেডলাইন বেঁধে দিতে গেলেন ওয়াকার? কী এমন ঘটল বাংলাদেশে?

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : বড় কিছু কি ঘটতে চলেছে পদ্মাপাড়ে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল জানিয়ে দিয়েছে, ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হবে। তাহলে কি সময় কমে আসছে ইউনুসের। তার জন্যই কি তাকে আল্টিমেটাম দেওয়া হল সেনার তরফে। বুধবার রাতে অর্থাৎ ১২ নভেম্বর রাতে জেনারেল ওয়াকার গিয়েছিলেন ইউনুসের সঙ্গে দেখা করতে। প্রায় সারারাত কথা হয় দু’জনের মধ্যে। কিন্তু কি কথা হল দু’জনের মধ্যে। ইউনুসকে কি সাবধান করলেন ওয়াকার?

অনেক হয়েছে,আর নয়, সময় এসেছে এবার সরে যান..বুধবার রাতে ইউনুসকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন ওয়াকার। তাহলে ওয়াকারও কি বুঝে গিয়েছেন বাংলাদেশের যা অবস্থা, আওয়ামী লীগ যেভাবে অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যেভাবে বাড়ছে আন্তর্জাতিক চাপ, তাতে করে ইউনুসকে নানান অজুহাতে আর ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই একেবারে স্পষ্ট করে ইউনুসকে বলে দিলেন আপনি সরে যান। না হলে যখন-তখন বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেতে পারে। ইউনুসের প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন কি ওয়াকার? কোনওভাবে কি কোনও আভাস তিনি পেয়েছেন?

বুধবার রাতে ইউনুসের সঙ্গে যেমন ওয়াকার বৈঠক করেন , তেমনি ইউনুসের প্রতিনিধি হিসাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এবং জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর মধ্যে একপ্রস্ত আলোচনা হয়। পরে সেই আলোচনায় যোগ দেন ওয়াকার। জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে দিয়ে ওয়াকারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন জাহাঙ্গির আলম চৌধুরী। কিন্তু কি এমন হল, যাতে ওয়াকারকে ম্যানেজ করতে হচ্ছে ইউনুসের। যদিও ইউনুসের সেই প্রচেষ্ট সফল হয়নি। জানা যাচ্ছে, বঙ্গভবনের ওই বৈঠকে ওয়াকার বলেন, ইউনুসকে দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে। এবং সাহাবুদ্দিন চুপ্পুও জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, আলোচনা শেষ না করেই বঙ্গভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

বাংলাদেশে কি সামরিক হামলার সম্ভবনা প্রবল হচ্ছে। বা যে কোন মুর্হূর্তে কি বাংলাদেশে সামরিক হামলা হতে পারে। হঠাৎ করে কেন এই সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে বাংলাদেশে। যদি সামরিক হামলা হয় তাহলে কোন দেশ হামলা চালাতে পারে বাংলাদেশে? ভারত নাকি আমেরিকা। দেখুন বাংলাদেশে পালাবদলের নেপথ্যে অনেকটা হাত ছিল আমেরিকার সেটা এখন একপ্রকার স্পষ্ট। এমনকি হাসিনাকে গদিচ্যুত করতে টাকাও ঢালা হয়েছিল। এমন খবরও সামনে এসেছে। ওয়াকিবহাল মনে করছে, যাদের উদ্যোগেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছিল ২০২৪-এর অগাস্টে। সেই মার্কিন ডিপ স্টেট এখন অস্তীত্ব সংকটে। ট্রাম্প এখন তার আগের নীতি থেকে সরে এসেছেন অনেকটা। তিনিও এখন চাইছেন হাসিনা দেশে ফিরুন। সেই খবরটাও ইউনুসকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন জেনারেল ওয়াকার।

আর ১০ নভেম্বর লালকেল্লায় বিস্ফোরণের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশ যোগ ছিল। আর সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু যোগসূত্র ইতিমধ্যে তদন্তকারীরা হাতে পেয়েছেন। যেমন ধরুন, বিপুল পরিমান বিস্ফোরকের একটা অংশ বাংলাদেশ হয়েই ভারতে এসেছিল বলে জানা গিয়েছে ইতিমধ্যে। অ্যামনিয়াম নাইট্রেট ভারতে কিছুটা সহজলভ্য হলেও,এটা দিয়ে মারাত্মক বিস্ফোরক তৈরি করতে ডিটোনেটর, জিলেটিন স্টিক বা অন্যন্য রাসায়নিক দরকার। আর এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যে ভারতের একাধিক জায়গা থেকে যে বিপুল পরিমানে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে তাতে করে এই ধরনের রাসায়নিক শুধু ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এক জায়গায় করা বিশাল কঠিন কাজ। তদন্তে উঠে এসেছে, চোরা পথে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়েই এই রাসায়নিক ভারতে ঢোকে। একটু জানিয়ে রাখি আপনাদের বাংলাদেশে বেশ সক্রিয় আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ এবং তবলিঘি জামাত নামে দুটি সংগঠন। ঢাকায় তাঁদের দফতরও রয়েছে। তবলিঘি জামাতের দফতর ঢাকার কাকরাইল এলাকায় রমনা পার্কের পাশে একটি মসজিদে। দিল্লি বিস্ফোরণের পরে গোয়েন্দাদের আতস কাঁচের তলায় এই তবলিঘি জামাত। তদন্তে এটা স্পষ্ট, যে দিল্লিতে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একই দাবি করেছেন। ফলে দিল্লিতে যে সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়েছে সেটা একপ্রকার মেনে নিল আমেরিকা। সন্ত্রাসবাদীদের সবক শেখানে ভারত যদি অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী পর্যায় শুরু করে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকেও কি টার্গেট করবে ভারত। তেমনই কি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন জেনারেল ওয়াকার। কারন আগেই প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন অপারেশন সিঁদুর কিন্তু শেষ হয়নি।

কিছু দিন কয়েক আগেই ওয়াকারের সঙ্গে সে দেশের শীর্ষ জেনারেল বা সামরিক কর্তাদের একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্তমান অবস্থা। কোনওভাবে ওয়াকারের সঙ্গে সেনা আধিকারিকদের সেই আলোচনার একটি ভিডিও পৌঁছে যায় ইউনুসের কাছে। এই খবরে সেনা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ ওয়াকারের উপর। বাংলাদেশ সেনার ধারনা দু’মুখো নীতি নিয়ে চলছেন। অর্থাৎ তিনি সাপের গালে একবার আর ব্যাঙের গালে একবার চুমু খাচ্ছেন।