জুবিনের মৃত্যুতে গ্রেফতার বেড়ে ৭

শুক্রবার গায়কের ২ ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করল সিআইডি

রিয়া হালদার, সাংবাদিক: দেখুন সময় যতই এগোচ্ছে ততই রহস্য ঘনাচ্ছে জুবিনের মৃত্যু নিয়ে। এই কয়েকদিনে এটা স্পষ্ট হয়েছে, জুবিনের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। মৃত্যুর পেছনে জড়িতরা গায়কের ঘনিষ্ঠরাই। গায়কের টিমের সদস্য থেকে শুরু করে তাঁর এক পুলিসে কর্মরত খুড়তুতো ভাই সন্দীপন গর্গ, এমনকি দেহরক্ষীরা গ্রেফতার হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭। শুক্রবার গায়কের ২ ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নন্দেশ্বর বরা ও পরেশ বৈশ্যকে গ্রেফতার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা সিআইডি।

টানা চারদিন ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। খবর পাওয়া গিয়েছে জুবিনের মৃত্যর আগে এই ২ নিরাপত্তীরক্ষীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল টাকার লেনদেন হয়েছে। যা কিন্তু তাদের বেতনের থেকে অনেকটাই বেশি। আর এই বিষয়ে জানতেন না জুবিনের স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া। তদন্তকারী দল অভিযুক্ত ২ নিরাপত্তারক্ষীকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের আবেদন করেছিল আদালতে। কিন্তু আদালত ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। জুবিনের স্ত্রী গরিমা সাইকিয়ার দাবি, অভিযুক্তরা আসল সত্য স্বীকার করতে চাইছেনা। এবং তদন্তের বিষয়ে অসম পুলিসের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেছেন গরিমা।

জুবিনের মৃত্যুর তদন্তের শুরুতেই অসম পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দল গ্রেফতার করেছিল গায়কের টিমের সদস্য শেখরজ্যোতিকে। তারপর থেকেই একের পর এক গ্রেফতার। এর আগে পুলিশ উত্তর-পূর্ব ভারত উৎসবের আয়োজক শ্যামকানু মহন্ত, জুবিনের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, সহশিল্পী শেখরজ্যোতি গোস্বামী ও অমৃতপ্রব মহন্ত এবং তার তুতো ভাই গ্রেফতার হয়।

এরা সকলেই সিঙ্গাপুরে জুবিনের সঙ্গে ছিলেন এবং নৌকাভ্রমণে উপস্থিত ছিলেন যেখানে তার মৃত্যু ঘটে। সহশিল্পী শেখরজ্যোতিই নাকি জুবিনকে জলে নামতে বলেছিলেন। আপনারা জানেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়েই মৃত্যু হয় জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গর্গের। সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয় ভারতীয় অনুরাগীরা। আরও একটি বিষয় আপনাদেরকে জানাই, জুবিনের পরিবার সূত্রে একটি খবর পাওয়া গিয়েছিল, জুবিনের নাকি মৃগী রোগ ছিল। জুবিনকে জল থেকে সর্বদা দূরে থাকতে বলেছিলেন চিকিত্সকরা। কিন্তু বিষয়টি জানার পরেও কেন তাকে জলের সংস্পর্শে নিয়ে যেতে দেওয়া হল? তবে কি প্ল্যানটা আগে থেকেই সাজানো ছিল? তদন্ত তো চলছে, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতারির সংখ্যা ৭। আরও কি কেউ জড়িত রয়েছে? বাড়তে পারে গ্রেফতারির সংখ্যা? প্রশ্নগুলি কিন্তু উঠছে।

এসবের মাঝে আবার জুবিনের মৃত্যুর পরেও তাঁর স্ত্রীর সিঁদুর পরা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। সম্প্রতি জুবিনের মৃত্যুর পর সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও পোস্টে দেখা গিয়েছে জুবিনের স্ত্রী গরিমার সিঁথিতে সিঁদুর। যা দেখেই নেটিজেনদের একাংশ গরিমাকে কটাক্ষ করতে করে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়তেই,জুবিনের স্ত্রী গরিমা জানান, জুবিনের মৃত্যুর পর তিনি সিঁথি ছুঁয়ে প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি যতদিন বেঁচে থাকবেন সিঁদুর পরে থাকবেন। তিনি এখনও বিশ্বাস করেন, জুবিনের সঙ্গে ফের গরিমার দেখা হবে। পরবর্তী প্রজন্ম বলে যদি কিছু থাকেতবে তিনি জুবিনকেই চান। তাই তিনি এই সিঁদুর পরে রয়েছেন।