দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার ৯.৫৫ মিনিটে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন অরূপ।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বহু জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মেসি-কাণ্ডে পুলিশের ডাকে সাড়া দিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় পৌঁছন। এর আগে তিন দফায় তাঁকে নোটিস পাঠানো হলেও বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকেরা তাঁকে একাধিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিয়োগ্রাফি করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মেসি-সফর সংক্রান্ত বিতর্কে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের রক্ষাকবচ পেয়েছেন অরূপ। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। তবে তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তও আরোপ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পুলিশের নোটিস পেলে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে এবং অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সেই নোটিস পাঠাতে হবে। পাশাপাশি সাত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশের বাইরে বা অন্যত্র যেতে পারবেন না।
এদিকে অরূপকে দেওয়া এই রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন মেসি-অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর আইনজীবী অরিন্দম জানা ইতিমধ্যেই প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আদালত সূত্রে খবর, মামলাটি গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই শুনানি হতে পারে।
গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতায় আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। তবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠানের দিন চরম বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, মেসির খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ফুটবল মহাতারকা। ঘটনার পর প্রবল সমালোচনার মুখে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ।
শতদ্রু দত্তের আরও অভিযোগ, অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে প্রায় ২২ হাজার টিকিট অরূপ বিশ্বাস নিয়েছিলেন এবং তার একটি অংশ বিক্রিও করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ অরূপের পক্ষ থেকে অস্বীকার করা হয়েছে। টিকিট বণ্টন, আর্থিক লেনদেন এবং অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর বৃহস্পতিবারের এই হাজিরা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।