স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, ফ্রিজ়ে কাটা মুন্ডু!

পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু অভিযুক্তের।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : স্ত্রীকে খুনের পর তাঁর কাটা মুন্ডু ফ্রিজ়ে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। সেই খুনের মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হল অভিযুক্ত স্বামীর। সোমবার ভোরে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে অসমের গুয়াহাটিতে। মৃতের নাম রামানুজ গোস্বামী। স্ত্রী রিয়া তালুকদারকে (২৫) খুনের অভিযোগে গত ৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, স্ত্রীকে সন্দেহ করতেন রামানুজ। রিয়া অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং তাঁকে প্রতারণা করছেন—এমনই সন্দেহ ছিল তাঁর। তদন্তকারীদের দাবি, সেই সন্দেহের বশেই গত ৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে স্ত্রীকে খুন করেন রামানুজ।

এর পর কয়েক দিন পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেশীরা বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোনোর কথা জানান। একই সময়ে রামানুজ এবং রিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের সদস্যেরাও পুলিশকে খবর দেন। বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ফ্রিজ়ের ভিতর থেকে রিয়ার কাটা মুন্ডু এবং কয়েকটি আঙুলের টুকরো উদ্ধার করে বলে দাবি তদন্তকারীদের। ওই দিন রাতেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন রামানুজ। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতেও ছিলেন তিনি।

পুলিশের দাবি, সোমবার ভোরে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য রামানুজকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে ফেরার পথে নরকাসুর পাহাড় এলাকায় আচমকাই পুলিশের উপর হামলা করেন তিনি। এর পর পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে চলন্ত পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দেন অভিযুক্ত। পাহাড়ি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির পর ৯ সেপ্টেম্বর রামানুজকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ। সে সময় তাঁর মধ্যে খুনের জন্য কোনও অনুতাপ দেখা যায়নি বলে দাবি তদন্তকারীদের। এমনকি জেল থেকে বেরিয়ে স্ত্রীর কথিত প্রেমিককেও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

জেরায় রামানুজ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও পুলিশের দাবি। তাঁর বাড়ি থেকে মদের খালি বোতল এবং রক্তমাখা একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ওই অস্ত্র দিয়েই রিয়াকে খুন করা হয়েছিল। অভিযুক্তের মৃত্যুর ফলে মামলার তদন্তের প্রক্রিয়া আদৌ এগোবে কিনা তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।