ইউনূসের কড়া নজরে ছিলেন ওসমান হাদি। এক্ষেত্রে ওসমান হাদির মৃত্যুর দায় ভারতের ঘাড়ে চাপালে যে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

২০২৪ সালে ছাত্র আন্দোলনের কারণে জ্বলেছিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। যার ফলে তত্কালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে চলে এসেছিলেন ভারতে। আবারও সেই পরিস্থিতির পথে যেতে চলেছে বাংলাদেশ? আসলে কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহ কিন্তু সেই দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এবারে অবশ্য সরকার পড়ার কোনও চিন্তা নেই। তবে এই অশান্তি জেরে পিছিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। যাতে সবথেকে লাভদায়ক হবে অন্তবর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে এই ঘটনার জেরে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশ সরকার।

আসলে গত কয়েকদিন ধরেই ঢাকা, খুলনা সহ একাধিক জায়গায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিল বাংলাদেশের কিছু কট্টরপন্থী দলের কর্মী সমর্থকরা। প্রতিবাদ হচ্ছিল ভারতীয় হাই কমিশনের সামনেও। তাঁদের দাবি ছিল হাসিনা সহ আওয়ামী লিগের পলাতক নেতাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। এই আন্দোলনের কারণে নয়াদিল্লির নির্দেশে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীর ভিসাকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সমস্যায় পড়ে যাঁরা চিকিত্সার জন্য ভারতে আসছিলেন। তাঁদের নিয়ে অবশ্য বিন্দুমাত্র চিন্তিত নয় প্রতিবাদীরা।

এদিকে এই প্রতিবাদের আগুনে ঘি পড়ে যখন ইনকিলাব মঞ্চের ছাত্র নেতা শরিফ ওসমান হাদিকে (Sharif Osman Hadi) গুলি করে খুন করা হয়। গত ১২ ডিসেম্বর পল্টন এলাকার কালভার্ট রোডে রিক্সায় করে যাওয়ার সময় তাঁকে মাথায় গুলি করে খুন করে এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি। বাইকে করে দুজন এসে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। প্রথমে তাঁর চিকিত্সা ঢাকায় হলেও পড়ে স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হাদি ভারতের সেভেন সিস্টার দখল করে অবিভক্ত বাংলাদেশ গড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এই নিয়ে তিনি বিতর্কিত ম্যাপও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। যা নিয়ে ভারতের তরফ থেকে আপত্তি জানানো হয়। বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার অবশ্য লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করে। তাত্পর্যপূর্ণভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এই হাদি। ছাত্র আন্দোলনের পর এই কট্টরপন্থী ইনকিলাব মঞ্চকে ভাঙার চেষ্টা করে অন্তবর্তী সরকার।

দল ভেঙে গেলেও সে ঢাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বে বলে জানিয়েছিল। এমনকী ৮টি জায়গায় তাঁর প্রার্থী দেওয়ার কথাও চলছিল। আর এতেই ইউনূসের কড়া নজরে এসেছিলেন ওসমান হাদি। কারণ পদের লোভ যে ইউনূসের আছে সেটা সকলেই জানে। এক্ষেত্রে ওসমান হাদির মৃত্যুর দায় ভারতের ঘাড়ে চাপালে যে এক ঢিলে দুই পাখি মরবে সেটা ভালোভাবেই বুঝতে পারছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।