এক দল ভিন্ন সুর!

মমতাকে হামলার ঘটনায় যখন নিন্দা করছেন মুখ্যমন্ত্রী, তখন দিলীপ-সৌমিত্রদের মুখে এ কেমন শব্দ ?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : একজন প্রাক্তন আরেকজন বর্তমান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কর্মীর বাড়িতে যেতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার। গাড়ি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হল ইট,কাদা, জুতো।

আরেকজন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হয়ে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে গেলেন। স্পটে দাঁড়িয়েই হালিশহর থানার আইসিকে ক্লোজ এবং আইও বা তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ডের সিদ্ধান্ত জাানালেন। এছাড়াও মৃতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করলেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হালিশহরে যাওয়ার আগে পরিবারের লোকেদের মধ্যে ছিল ক্ষোভের আগুন। খানিকটা সমালোচনার সুরেই সেদিন মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মৃতের পরিবারের লোকেরা।

তবে কি শুভেন্দু অধিকারী জ্বলে ওঠা প্রতিবাদের আগুনে আগেই জল ঢেলে দিলেন ? তৃণমূলকে আর ইস্যু খুঁজে রাস্তায় নামার কোনও সুযোগই দিতে চাইছেন না শুভেন্দু অধিকারী। আবার অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী থেকে অগ্নিমিত্রা পালেরা যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্থা কাণ্ডে শক্ত হাতে হাল ধরছেন তখন তাঁরই ক্যাবিনেট মন্ত্রী থেকে নেতাদের এ কেমন মন্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী থেকে পুরনগরোন্নয়ন মন্ত্রী আগুন নেভাতে ব্যস্ত অন্যদিকে থেকে দিলীপ ঘোষ, সৌমিত্র খাঁদের মুখে অন্য ভাষা । বিরোধী থাকাকালীন তাঁদের উপর যখন হামলা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে তাঁরা বলছেন, যা করেছে ঠিক করেছে।

হালিশহরে রবিবার দুপুরে নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয় রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। জুতোও ছোড়া হয়। ওঠে চোর ও ডাকাতরানি স্লোগানও। এই বিক্ষোভের ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ হেন আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সংগঠিত করতে চাইছে তৃণমূল। আর সেই প্রতিবাদের আগুন জ্বলে ওঠার আগেই ময়দানে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সকাল হতে না হতেই হালিশহরে মৃত তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে ছুটে গেলেন তিনি। কাঁচড়াপাড়ায় পুলিশি হেফাজতে থাকার সময় মৃত্যু হওয়া তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন । আর সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলন করে শুভেন্দু বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দলের নয় রাজ্যের। নাম না করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আপনাকে শিখিয়ে দিয়ে গেলাম। শুভেন্দু অধিকারীর স্বীকার করে নিয়েছেন মৃত পুলিশ হেফাজতে মারা গিয়েছে। পুলিশের যে গাফিলতি রয়েছে তাও তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

আর এখানেই বাজিমাৎ শুভেন্দু অধিকারীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে শুভেন্দু অধিকারী ভালো করেই জানেন কোন রোগের কী ওষুধ। সমালোচনাকে কীভাবে হারাতে হয়। শুভেন্দু অধিকারীর সুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও একই ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে কাদা, পাথর, ইট ছোঁড়াকে সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পালও এই ঘটনার নিন্দা করেছেন।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে অগ্নিমিত্রা পাল সমালোচনায় ইতি টানতে চাইছেন তাঁদেরই দলের মন্ত্রী থেকে নেতাদের একি মন্তব্য। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ থেকে সাংসদ সৌমিত্র খাঁ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে হামলাকে যেন সমর্থনই করে গেলেন।

এক দল ভিন্ন সুর। তবে কি হোমওয়ার্কে কোথাও ফাঁক থেকে যাচ্ছে ? শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যবাসী থেকে বিরোধীদের পালস ভালো ভাবে ধরতে পেরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসার পর থেকেই তাঁর বাচনভঙ্গী থেকে পদক্ষেপ সবই অনেক পরিণত। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, কোন দেবতা কোন ফুলে তুষ্ঠ তা ভালো ভাবেই জানেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই তো তাঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা গেল উনি যেখানে খুশি যেতে পারেন, উনাকে পরামর্শ দিতে পারি না, বয়সে বড়,অনুরোধ করব, আপনি মেইল করে শিডিউল জানালে সেই প্রোটেকশন পাবেন। নিহতের স্ত্রীকে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাটেনডেন্ট হিসাবে চাকরি দেওয়া হয়েছে। অ্যাটেনডেন্টরা ১২ মাস ১৫ হাজার টাকা করে বেতন পান। ১ বছর পর গ্রুপ ডি স্টাফ হন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে নিহতের দুই শিশুর পড়াশোনার জন্য ১০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু কি সমর্থনযোগ্য ?