এ যেন আরজিকরের পুনরাবৃত্তি। দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে অবশেষে কল্যাণী এইমসে শুরু হল সিঙ্গুরের নার্সের ময়নাতদন্ত। সকাল ১০.১৫ মিনিট নাগাদ শুরু হয় ময়নাতদন্ত।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ সিঙ্গুরের বেসরকারি নার্সিংহোমে তরুণী নার্সের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা বাড়ছে। মৃত্যুর পর থেকেই ময়নাতদন্ত নিয়ে তৈরি হয়ে যায় বড়সড় জটিলতা। শুক্রবার শ্রীরামপুর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা থাকলেও, তা শেষ মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দেহ নিয়ে আসা হয় কলকাতা পুলিশ মর্গে। সেখানে পৌঁছে যান বিজেপি এবং সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা। দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায়। মৃতদেহের অধিকার কারা নেবে, তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে গন্ডগোল শুরু হয়। দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। বেশ কিছু ক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

মৃতা তরুণীর পরিবার অভিযোগ তোলে জোর করে তাঁদের মেয়ের দেহ কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আটকে যায় ময়নাতদন্ত। তাঁরা চেয়েছিলেন যদি কম্যান্ড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা যায় । শ্রীরামপুরে ময়নাতদন্ত করলেও ভাল হত বলে জানিয়েছেন তাঁরা। শুধু তাই নয় কমান্ড হাসপাতালের পাশাপাশি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে তিনি ময়নাতদন্ত করাতে চান বলেও জানিয়েছেন। কিন্তু তখন মৃতদেহের দখল নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা চরমে।

পুলিশের তরফে রাতেই যোগাযোগ করা হয় কল্যাণী এইমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তাঁদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, ময়নাতদন্তের পরিকাঠামো রয়েছে। তাঁরা প্রস্তুত। এরপরই শনিবার সকালে দেহ নিয়ে কল্যাণীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে পুলিশ। গ্রিন করিডোর করে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণীতে। শনিবার ভোরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পৌঁছয় পুলিশের একাধিক আধিকারিক। সেখানে ছিলেন কলকাতা পুলিশ এবং বেঙ্গল পুলিশের প্রতিনিধিরাও।

বুধবার রাতে সিঙ্গুরের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের ঘরে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্সের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার এই ঘটনাকে শুধুই আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। নার্সিংহোমের মালিকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলেন তরুণীর মা-বাবা। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মৃতার প্রেমিক ও নার্সিংহোমের মালিককে গ্রেফতার করেছে হুগলি গ্রামীণ পুলিশ। ধৃতরা হলেন নার্সিংহোম মালিক সুবীর ঘোড়া। মৃতার প্রেমিক রাধাগোবিন্দ ঘটন।