আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন নয়, বাংলাদেশ অচলের হুঁশিয়ারি হাসিনার দলের
জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক: আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে, দেশের একটা বৃহৎ মানুষের সমর্থনকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশে কোনও ভাবেই ভোট করতে দেওয়া হবে না। এই দাবিকে সামনে রেখে সোমবার বাংলাদেশ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের প্রতিটি শহর, গ্রামে আওয়ামী লীগ কর্মীরা বিক্ষোভ-মিছিল করবেন সোমবার। একেবারে বাংলাদেশ অচল করে দেওয়ার ডাক দেওয়া হয়েছে হাসিনার দলের তরফে। ১৩ নভেম্বর ঢাকায় লকডাউনের ডাক দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের তরফে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানকের কথায়, গত ৫ বছর ধরে হাসিনাকে মারার চক্রান্ত করেছে মৌলবাদীরা। তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল না হওয়ায় এবার তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা শেখ হাসিনার উপর চাপানো হচ্ছে। আর সেই মামলায় ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হচ্ছে মুজীব কন্যাকে। হাসিনার কোনও ক্ষতি কোনওদিন হতে দেবে না আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। ১৩ নভেম্বর ঢাকার অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজ সব বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের মানুষ আর ইউনুসকে চায় না। বাংলাদেশকে পাকিস্তান করে দিয়েছে ইউনুস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। বাংলাদেশ এখন জঙ্গি রাষ্ট্রেরই নামান্তর।

শেখ হাসিনা পদত্যাগের পরে গত ১৪-১৫ মাসে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের উপর পীড়ন, অত্যাচার, গুম, খুন চালিয়েছে ইউনুসের প্রশাসন। এমনকি মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী- সমর্থককে জেলে ভরেছে ইউনুসের পুলিশ। কিন্তু আওয়ামী লীগকে কোনওভাবেই শেষ করা যাবে না এটা স্পষ্ট করে দেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।
হাসিনার দলের স্পষ্ট বক্তব্য, তারা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে পাল্টা প্রতিরোধ হবে, পুলিশী দমন-পীড়ন বাড়বে সেটা তারা প্রত্যেকেই জানেন। কিন্তু আর হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না তারা। কারণ তাদের নেত্রী ভারতের আশ্রয়ে থেকেও ক্রমাগত দলকে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, উজ্জীবিত করে যাচ্ছেন দলের সমর্থকদের। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের উপর অত্যাচার নেমে আসলে, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চারটি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে হাসিনার দল।
প্ল্যান ’এ’ — আওয়ামী লীগ এখনও মনে করে হাসিনা বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। এই বিষয়টা নিয়ে মানুষের মনে একটা দ্বিধা দ্বন্দ তৈরি করেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেছেন, পদত্যাগের যে সকল কাগজপত্র থাকা দরকার সেটা তার কাছে নেই। শেখ হাসিনাও একাধিকবার বলেছেন তিনি পদত্যাগ করেননি। হাসিনার কথায়, আমি পদত্যাগ করিনি কিন্তু পরিস্থিতি মেনে নিয়েছি। তত্ত্বাবধয়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে চাই। আর প্ল্যান ‘এ’ এর ৯৯ শতাংশ কাজ তিনি করছেন গোপনে ভারত এবং বিদেশী সহযোগিতায়।
প্ল্যান বি হলো— বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিটা স্বাভাবিক করা। বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, নির্বাচন হোক বা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করুক। এটাকে একটা রি-কনসিলিয়েশন করে পাঁচ বছরের একটা মাল্টিপ্ল্যান নিয়ে আবার ক্ষমতায় ফেরা।

প্ল্যান সি- নির্বাচন যদি হয় তাহলে পাকিস্তানে যেভাবে ইমরান খান জেলে থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে সফলতা লাভ করেছেন ঠিক একই পদ্ধতিতে আওয়ামী লীগও চলছে।
কোনো রকম দলীয় ব্যানার ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করাবে আওয়ামী লীগ। এর জন্য যত অর্থ খরচ করা দরকার করবে হাসিনার দল। আওয়ামী লীগের যে সমস্ত ব্যবসায়ী রয়েছেন, যে সমস্ত লোকজন নিউট্রাল রয়েছেন, তাদেরকে রাজনীতিতে একটিভ করানো হচ্ছে।
প্ল্যান ’ডি’- আওয়ামী লীগ ভোটে লডা়ই করতে না পারলে, যেকোনো মূল্যে নির্বাচনকে বানচাল করা। আওয়ামী লীগ তাদের লোকজনকে দিয়ে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটায় অরাজকতা তৈরি করতে চায়। নির্বাচনে যারা প্রার্থী, তাদের মধ্যে ভয়-আতঙ্ক তৈরি করার পাশাপাশি নির্বাচনকে রীতিমত ভয়াবহ করে তুলতে চায়।
হাসিনার বক্তব্য় একাত্তরের যুদ্ধের ধাঁচে লড়াই করতে হবে। যার যা আছে তাই নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়তে হবে। আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ভোট হলে, সরকার গঠিত হলে সেই সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ ছুড়ে ফেলে দেবে। তাই লড়াই হবে মাঠে-ময়দানে। অধিকারের লড়াই।