গতি পেল বদ্রীনাথে প্রণামীকাণ্ডের তদন্ত!

সিসিটিভি বাজেয়াপ্ত, জেরার মুখে মন্দিরের সিইও

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বদ্রীনাথ ধামে ভক্তদের প্রণামীর অর্থে অনিয়ম ও তছরুপের অভিযোগ ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়। উত্তরাখণ্ড সরকারের গঠিত তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) সোমবার মন্দিরে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করেছেন এবং মন্দিরের মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক (সিইও) সোহন সিং রঙ্গদ ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী অতুল ডিমরিকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা।

গাড়োয়াল কমিশনার আনন্দ স্বরূপের নেতৃত্বে গঠিত এসআইটি তদন্তের শুরুতেই মন্দির প্রশাসনের আর্থিক লেনদেন ও প্রণামী গণনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটায়। বিশেষ করে প্রতিদিনের দানের অর্থ কীভাবে সংগ্রহ, গণনা ও সংরক্ষণ করা হয়, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে এই প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি ফৌজদারি তদন্তও জোরদার হয়েছে। বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটির (বিকেটিসি) বরখাস্ত কর্মী প্রমোদ নৌটিয়ালকে ইতিমধ্যেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে গোপেশ্বর জেলা আদালত। তবে তদন্তে উঠে আসছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২৫ জুনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা প্রণামীর টাকা গণনার ঘরে আরও কয়েকজন বিকেটিসি কর্মীর সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করেছেন। সেই ফুটেজ বাজেয়াপ্ত করে তাঁদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থ তছরুপে কোনও বড় চক্র জড়িত কি না, তাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

প্রণামী কাণ্ড ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। উত্তরাখণ্ড কংগ্রেস সভাপতি গণেশ গোদিয়াল এবং বিকেটিসি চেয়ারম্যান হেমন্ত দ্বিবেদী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। হেমন্তের দাবি, কংগ্রেস ইস্যুটিকে রাজনৈতিক রং দিচ্ছে। অন্যদিকে গোদিয়াল জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগের জবাব তিনি প্রকাশ্যে দিতে প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, প্রথম এই অভিযোগ সামনে আনেন ভৈরব সেনার প্রতিষ্ঠাতা সন্দীপ খাত্রি। তাঁর অভিযোগের পরই বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। প্রথমে বিকেটিসি চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করলেও পরে উত্তরাখণ্ড সরকার উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের এসআইটি গঠন করে তদন্তভার দেয়।