ডেঙ্গি চিকিৎসায় নজির গড়ল বনগাঁ মহকুমা হাসপতাল। লাগাতার তদারকির জন্য চলতি বছরে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমেছে ওই হাসপাতালে।
সত্যজিৎ চক্রবর্তী, নিজস্ব সংবাদদাতা: ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে বড়সড় সাফল্য পেল বনগাঁ মহকুমা হাসপতাল। জেলা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের গাইডলাইন অনুযায়ী, চিকিৎসা থেকে রোগীদের ফলোআপ করা সহ প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, নার্সদের পরিষেবা এবং হাসপতালে সুপারের লাগাতার তদারকির জন্য চলতি বছরে ডেঙ্গিতে মৃত্যুর হার শূন্যে নেমেছে। এর কারণেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ডেঙ্গি মডেল হাসপাতালের স্বীকৃতি পেয়েছে বনগাঁ মহকুমা হাসপতাল। এই সাফল্যে আগামীদিনে ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল বলেই দাবি, হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বারুইয়ের।

উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মধ্যে ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসেবে রয়েছে বনগাঁ মহকুমা। ২০২৩ সালে এই মহকুমাজুড়ে ব্যাপকভাবে ডেঙ্গির প্রভাব বেড়েছিল। সংখ্যায় প্রায় চার হাজার মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।এরমধ্যে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটেছে। ওই সময় ক্রিটিকাল ডেঙ্গি আক্রান্ত বহু রোগীকেই রেফার করতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সাল থেকেই ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা সহ সচেতনতার ক্ষেত্রে জেলা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের গাইডলাইন মেনে কাজ করতে শুরু করেন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় চিকিৎসক এবং নার্সিং টিমকে। এর সঙ্গে এইচডিইউ, আইসিইউ থেকে ব্লাড ব্যাঙ্ক সহ অন্যান্য প্যাথোলজির উপর জোর দেওয়া হয়। ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা কীভাবে চলছে, তা খতিয়ে দেখতে প্রতি মাসে অন্তত দু’বার পরিদর্শন করেছেন জেলা এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। এর ফলও মিলেছে হাতেনাতে। প্রাথমিক চিকিৎসা, আউট ডোর পরিষেবা যথাযথভাবে হওয়ার কারণে ২০২৪ সালে এক ধাক্কায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ভর্তির সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। ওই বছর ৪৯২ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত ভর্তি হয়েছিলেন।

২০২৫ সালের জুলাই থেকে দফায় দফায় প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে বনগাঁ মহকুমা। গত চার মাস ধরে বহু এলাকা জলমগ্ন ছিল। জমা জল কমে যাওয়ার পর মাথাচাড়া দিয়েছে ডেঙ্গি সংক্রমণ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৩৫০ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত ভর্তি হয়েছেন বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে। বর্তমানে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ২৫ জন। ডেঙ্গি আক্রান্ত কারোর মৃত্যু হয়নি। কোন রোগীকেও অন্য হাসপতালে রেফারও করা হয়নি। ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বেডের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। হাসপতালে মোট ৬৫০ বেডের মধ্যে প্রায় ১৫০ বেড রাখা হয়েছে ডেঙ্গি আক্রান্তদের জন্য। ডেঙ্গি আক্রান্তদের চিকিৎসা,তাদের মনিটরিং করা সহ অন্যান্য বিষয়গুলো সঠিকভাবে সামাল দেওয়ার জন্যই বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালকে ডেঙ্গি মডেল হাসপতালের শিরোপার স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

এই প্রসঙ্গে হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বাড়ুই জানাচ্ছেন, “রাজ্যের গাইডলাইন মেনেই আমরা আক্রান্তদের চিকিৎসা করিয়েছি। বনগাঁ হাসপাতালেই ডেঙ্গি চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। ডেঙ্গি চিকিৎসায় সাফল্যের কারণেই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এই স্বীকৃত দিয়েছে। এরফলে আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়ল।“