ঢাকার কেন্দ্রীয় সেনানিবাসের একাংশে জেলখানা গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত এম-ই-এস বিল্ডিং-এর নম্বর ৫৪-কে সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ঘোষণা করা হল। কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এই আদেশ জারি করা হল। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।

এবার আপনাদের জানাই, বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার জামান ৯ অক্টোবর একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। আর সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনার ৫৬ জন জেনারেল। সেদিনের ওই বৈঠকে ওয়াকার জানান, অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান মিলিয়ে মোট ২৫ জন সেনা কর্তাকে গুম-খুন-মানবতা বিরোধী অপরাধে যুক্ত থাকার জন্য তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে বাংলাদেশ সেনা। ওই ২৫ জনের মধ্যে ১৫জনই বর্তমানে বাংলাদেশ সেনায় কর্মরত। এই ১৫ জন হচ্ছে যাদেরকে হেফাজতে নিয়েছে বাংলাদেশ সেনা। এই ১৫জন সেনা অফিসারের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সেনায় কর্মরত। আর এক জন অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি বা এল.পি.আর-এ রয়েছেন। এই ১৫ জনের বিরুদ্ধে গুম-খুন-মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই অফিসাররা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে ‘গুম করে নির্যাতন’, জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনের সময়ে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এ জড়িত। এদের প্রত্যেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে সেনার অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান সাংবাদিক বৈঠকে জানান। একমাত্র মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ আত্মগোপন করে রয়েছে। যিনি হাসিনার আমলে সামরিক সচিব ছিলেন।

৯ অক্টোবর একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন জেনারেল ওয়াকার। সেখানে তিনি জানান, ২৫ জন সেনাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসবে বাংলাদেশ সেনা। ইতিমধ্যে ১৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছে সেনা। সেদিনের ওই বৈঠকে জেনারেল ওয়াকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করেছিলেন বাংলাদেশ সেনার ৪ শীর্ষ কর্তা। কিন্তু তাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে জেনারেল ওয়াকার তাঁর নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। তখন হয়তো তিনি বুঝতে পারেননি এই ১৫ সেনাকর্তার হেফাজতে নেওয়া বুমেরাং হয়ে ফিরবে তার কাছে। আপনাদের জানাই এই ঘটনার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একটা তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দুইভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। একটা অংশ ওয়াকার বিরোধী আর একটা অংশ ওয়াকার পন্থী। আর ওয়াকার বিরোধীরা পাল্লায় অনেকটা বেশী বা ভারী। তাদের বক্তব্য বাংলাদেশ সেনার একটা মান-সন্মান আছে। কিন্তু বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার সেনাকে রাস্তায় নামিয়ে এনেছেন। আন্তর্জাতিক মহল এখন বাংলাদেশ সেনার নামে ছি ছি করবে। কোনও সভ্য দেশে এমন হতে পারে না। সেনাবাহিনী, গ্রেফাতর করছে সেনাবাহিনীর সদস্যদের। আরে এতো পাকিস্তানের রি-টেক। একটু আপনাদের মনে করাই, পারভেজ মশারফ যখন পাক সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন তখন তাকে গ্রেফতার করে পাক সেনা। পরে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। তবে বাংলাদেশে যা ঘটল সেটা পাকিস্তানকেও লজ্জা দেবে বলে মত জেনারেল ওয়াকার বিরোধীদের। তাদের বক্তব্য বাংলাদেশ সেনা তো ১৫ জন সেনাকে এমনি এমনি হেফাজতে নেয়নি। এটা তো কারও নির্দেশে হয়েছে। আর সেই নির্দেশই তো দিয়েছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তাহলে কেন তিনি রেয়াত পাবেন। তবে ১৫ জন সেনাকে হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় সেনাবাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দল বিএনপি এবং জামায়াত। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তির ‘অপকর্ম’-এর দায় প্রতিষ্ঠানের উপরে চাপানো ঠিক নয়। দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষায় সংশ্লিষ্ট অপরাধের সুষ্ঠু ও নির্মোহ বিচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনারা কি জানেন জেনারেল ওয়াকার ঠিক কতটা চাপে রয়েছেন এই ঘটনার পরে? তিনি তার দুটি বিদেশ সফর বাতিল করেছেন। আর সেই দুটি বিদেশ সফরের মধ্যে একটি ছিল দিল্লি সফর। অক্টোবরের ১২-১৪ তারিখ দিল্লি আসার কথা ছিল বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের। অপরটি ছিল চার দিনের সৌদি সফর। যেটিও ছিল চলতি মাসে। ওয়াকারের পরপর দুটি সফর বাতিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তাহলে কি কোনও ভাবে জেনারেল ওয়াকার আঁচ করতে পেরেছেন, নতুন করে বাংলাদেশে কী ঘটতে চলেছে। তবে গোপনে বাংলাদেশ ত্যাগের কোনও পরিকল্পনা নেই ওয়াকার উজ জামানের। তবে সূত্র কিন্তু অন্য কথা বলছে। জানা যাচ্ছে গোপনে বাংলাদেশ ছেডে পালিয়ে যাওয়ার নীল নকসা খুঁজছেন ওয়াকার।