অভিনব ভঙ্গিতে ঘর ওয়াপসি তারেক রহমানের

Bangladesh Tarek rahman : ঘরওয়াপসি হল তারেক রহমানের। এবার কি তাহলে শেখ হাসিনার পালা ? কবে ফিরছেন মুজীব কন্যা ? কার সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় ভারত ? কবে শেখ হাসিনাকে ঢাকার হাতে তুলে দেবে নয়াদিল্লি ?

জুলেখা নাসরিন, সাংবাদিক : ১৭ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে ঠিক নির্বাচনের আগে সপরিবারে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। সঙ্গে ফিরেছে জীবুও। খালি পায়ে মাতৃভূমিকে প্রনাম করেই খালেদা পুত্রের বার্তা I HAVE A PLAN. জনগনের ভালোবাসায় আপ্লুত তারেক রহমান। স্বাভাবিক সেটা। কারন তার ফেরা নিয়ে তো কম জলঘোলা হয়নি। সব বাধা কাটিয়ে, ঘোলা জল সরিয়ে দেশে ফিরেছেন তারেক রহমান। তারেক তো ফিরেছেন, কিন্তু তিনি.. তিনি কবে ফিরবেন। তার ফেরার অপেক্ষায় তো ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলছেন তার দলের কর্মী সমর্থাকরা।। আমি ধরেই নিলাম, তিনি ফিরবেন, খুব শিগগিরই তিনি
ফিরবেন। আর এখানেই তো টুইস্ট। সঙ্গে একটা প্রশ্ন।

তারেক রহমান দেশে ফিরছেন, প্রবল জনজোয়ারে তিনি ভেসে গিয়েছেন সেই ছবি সকলের মতো এতক্ষনে আপনিও দেখে ফেলেছেন আমি নিশ্চিত। কিন্তু একটা বিষয় কি লক্ষ করেছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা থেকে বাসের সামনে দাঁড়িয়ে তার হাত নাড়া, মঞ্চে তার ভাষন …নিরাপত্তার বিষয়টা লক্ষ্য করেছেন ? আমার প্রশ্নটা এখানেই। শেখ হাসিনা যখন দেশে ফিরবেন তখন তারেক রহমানের মতো এমন নিরাপত্তা কি পাবেন মুজীব কন্যা । তার জন্যও সেনা-পুলিশের ততপরতার পাশাপাশি আম-জনতার এমন উৎসাহ কি দেখা যাবে ?? যদিও এই উত্তর দেবে সময়।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে বাংলাদেশ যেমন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, ঠিক তেমনি আওয়ামী লীগ সমর্থকরা অপেক্ষা করছেন। হাসিনার ফেরা নিয়ে গত ১৫-১৬ মাসে একাধিক আলোচনা হয়েছে পদ্মার ওপারের সঙ্গে এপারেও। নয়াদিল্লি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি তার উপর ছেড়ে দিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য সম্পর্কেও আপনারা সকলেও কমবেশি জানেন।

কিন্তু এটা কি জানতেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীন সিপিআইএম নেতা মহম্মদ সেলিম। ২৩ ডিসেম্বর কলকাতায় বাংলাদেশের যে ডেপুটি হাইকমিশনের দফতর রয়েছে সেখানে বিক্ষোভ দেখায় সিপিআইএম। সেখানেই শেখ হাসিনা নিয়ে মন্তব্য করেন মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন কিনা সেই সিদ্ধান্ত কেন নেবেন মোদী সরকার। প্রশ্ন তোলেন মহম্মদ সেলিম। আগে ভারত বাংলাদেশকে নিয়ে খোলাখুলি কথা বলত। কিন্তু এখন ভারত বাংলাদেশ ইস্যুতে একেবারে চুপ। কিন্তু কেন চুপ সেটা স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেন প্রবীণ এই সিপিআইএম নেতা।

তবে মহম্মদ সেলিম একটি কথা বলেছেন, আন্তর্জাতিক চাপ ও শর্তের কাছে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক চাপ বলতে কি মার্কিন চাপের কথা বোঝাতে চাইলেন প্রবীণ এই সিপিআইএম নেতা। তাহলে কি আমেরিকার গ্রিন সিগনালের অপেক্ষা করছে নয়াদিল্লি। আমেরিকার গ্রিন সিগনাল পেলেই কি ঢাকার হাতে তুলে দেওয়া হবে শেখ হাসিনাকে। তবে এই সংবেদনশীল বিষয়ে ভারত নিশ্চয়ই ভেবে সিদ্ধান্ত নেবে।

অন্যদিকে ভারত যখন বাংলাদেশের প্রতি একটা সহনশীল, সংবেদনশীল মনোভাব দেখাচ্ছে তখন বাংলাদেশ কি করছে, ক্রমে তো ভারত বিরোধীতার সুর চড়া হচ্ছে ওপার বাংলায়। এরই মধ্যে আবার শোনা যাচ্ছে, তুরস্ক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তান তুরস্কের খুব কাছের। সেটা আমরা একপ্রকার অপরেশন সিঁদুরের সময় টের পেয়েছি। পাকিস্তানের তুরস্কের ড্রোন ব্যবহারের মধ্য দিয়ে। এখন বাংলাদেশ-পাকিস্তান কার্যত দুই ভাই। গলায় গলায় ভাব দুই দেশের। তাহলে সমীকরন কী দাঁড়ল, বাংলাদেশ-পাকিস্তান-তুরস্ক এক সরলরেখায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইউনুসকে বাংলাদেশের উত্তেজনা কমাতে বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে চাই না। তবে পরিস্থিতিটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। কারণ, এটি শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ভারতের পাশে রাশিয়া। এটা তো স্পষ্ট হল। তাহলে কি দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে কিছু দেশ। আর পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন দেশের ভাগ হয়ে যাওয়া তো বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ।

তুরস্ক বাংলাদেশকে কি ভাবে সাহায্য করতে চায়, এবার এটা জেনে নিন। তুরস্ক প্রতিরক্ষা বিষয়ে সাহায্য করতে চায় বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডক্টর ওমর বেলাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। ইউনুসের সঙ্গেও তারা সাক্ষাত করেন। এবং মহম্মদ ইউনুস তুরষ্কের প্রতিনিধি দলকে বলেছেন, বাংলাদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগান। এতে তুরস্কের ভালো হবে। আর ইউনুসের কথায় সম্মতিও দিয়েছে তুরস্ক। তাহলে পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও যদি বাংলাদেশে নিজেদের সুবিধার জন্য কোনও প্রতিবষ্ঠান বা কিছু তৈরি করতে চায়। তাহলে নিশ্চয়ই জমি তারা পাবে। একে ওকে জায়গা দিতে দিতে তো পুরো বাংলাদেশটাই বিদেশিদের কজ্বায় চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের আদতে কি থাকছে। শুধু স্বস্তার মিথ্যা আস্ফলন। নাকি শেখ হাসিনাকে হাতে পেতে দল ভারী করছে বাংলাদেশ।

তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বর্তমান সম্পর্ককে ভারতের জন্য এখন “সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ” বলা হচ্ছে। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি একটা বড় সামরিক চাপও তৈরি করেছে ভারত বাংলাদেশের উপর। যেমন ভারত নিঃশব্দে কেবল বাংলাদেশ সীমান্তে নিজেদের সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। নতুন নতুন সেনাছাউনি করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে স্থল বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করেছে নয়াদিল্লি। যদিও বাংলাদেশের অনুরোধে চাল, পিঁয়াজের মতো নিত্যপ্রয়জনীয় পণ্য রফতানি করছে ভারত। কিন্তু আমদানি কার্যত পুরোপুরি বন্ধ। ফলে বাংলাদেশের বাজারে একটা প্রভাব ফেলেছে। লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির দায় নিতে হচ্ছে অন্তবর্তী সরকারকে। ভারত ভিসা সীমিত করায় প্রবল সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ, ও ব্যবসায়ীরা। যদিও সম্প্রতি বাংলাদেশও ভারতীয়দের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে কূটনৈতিক বার্তা দেওয়া হলেও, ভারতের খুব একটা ক্ষতি হবে বলে মনে করছেন না ওয়াকিবহাল মহল।

অন্যদিকে মার্কিন মুলুক থেকে বেশ কড়া ভাষায় আবার চিঠি পেয়েছেন ইউনুস। সেই চিঠিতে অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টাকে সংযত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘও মুহাম্মদ ইউনুসকে বাংলাদেশে দ্রুত শান্তি ফেরানোর কথা বলছে। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে বাংলাদেশের উপর চাপ বাড়াচ্ছে ভারত। সেই সঙ্গে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে বাংলাদেশ সেনাকেও চাপে রাখছে ভারতীয় সেনা। এখন দেখার, তুরস্ক ও পাকিস্তানের উস্কানি ইউনুসকে কতটা প্রভাবিত করে।