শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট দলটিকেও সেখান থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হল।
রিমা দত্ত, সাংবাদিক: আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। গত ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তির দিনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস জানিয়েছিলেন, আগামী বছর রমজান শুরুর আগেই ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচন করতে চান। তিনি বলেছিলেন,২০২৬ সালের পবিত্র রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব। তারপরের দিনই মহম্মদ ইউনুস চিঠি পাঠালে ভোটার তালিকা সংশোধন ও আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করে কমিশন। ইতিমধ্যেই সে কাজ শেষ হয়েছে। গত ২৭ অগস্ট এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা অনুমোদনও করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আর সেই মতো বিএনপি সহ বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি শুরু করে দিয়েছে সমীক্ষাও। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য এল দুঃসংবাদ। রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে প্রত্যাহার করা হল বাংলাদেশের নিরাপত্তা রক্ষীদের।

মধ্য আফ্রিকার গৃহযুদ্ধ দীর্ণ ‘কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’ যা ‘ডিআর কঙ্গো’ নামে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিত। শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট দলটিকে মঙ্গলবার সেখান থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রসংঘের এই সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল রাষ্ট্রসংঘ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, এর নেপথ্যে রয়েছে তীব্র অর্থসঙ্কট। যার কারণে রাষ্ট্রসংঘ বিশ্বজুড়ে ন’টি শান্তিরক্ষা অভিযানে প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি অর্থাৎ ২৫ শতাংশের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য কমাতে বাধ্য হয়েছে। আর তারই প্রভাব পড়েছে কঙ্গোর শান্তিরক্ষা মিশনে। নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৮০ সদস্যের কনটিনজেন্টের মধ্যে ৭০ জন নারী পুলিশ রয়েছেন সেই দলে। বাংলাদেশ ১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯টি দেশে কর্মরত ২৫ শতাংশ শান্তিরক্ষীকে অর্থাভাবের কারণে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। ১৩-১৪ হাজার সেনা ও পুলিশকর্মীকে ফেরত পাঠানো হবে তাঁদের দেশে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার রাষ্ট্রসংঘকে দেওয়া আর্থিক অনুদানের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সম্প্রতি ব্যয় সঙ্কোচের পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। গত মে মাসে ৬৯০০ জন কর্মী ও আধিকারিককে চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ।

অর্থসঙ্কটের কারণ কী ?
হোয়াইট হাউসের বাজেট অফিস সম্প্রতি ২০২৬ সালের রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অর্থসাহায্য সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার প্রস্তাবও দিয়েছে। তাদের যুক্তি, মালি, লেবানন এবং ডিআর কঙ্গোতে শান্তিরক্ষা মিশন সফল হয়নি। যদিও গত জুলাই মাসে কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকার মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করেছিল কঙ্গোর সরকার এবং বিদ্রোহী এম ২৩ বাহিনী। এরপরে পশ্চিম অংশে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও উত্তর-পূর্ব কঙ্গোয় খনিজ সম্পদের দখলের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক ভাবে আইএস মদতপুষ্ট এডিএফ বিদ্রোহীরা হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে এর ব্যর্থতা কার? হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই রাষ্ট্রসংঘে বাংলাদেশে অশান্তি নিয়ে বারবার মুখ পুড়েছে ইউনুস সরকারের। আর তারপরেই শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন অনেকে। এই নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।